ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নিহত কর্মীর বাড়ি গিয়ে হামলার শিকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তার উদ্দেশে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয়, ডিম ও কাদা নিক্ষেপ করে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার জামাও ছিঁড়ে যায়।
দলের নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বিকেলে সোনারপুরে যান অভিষেক। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে মোটরসাইকেলে করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি, আর চারপাশে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিষেকের মাথায় একটি হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও কাদা ছোড়া হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে।
নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে অভিষেক বলেন, “দেখুন, আমার কী অবস্থা করেছে। হেলমেট ছিল বলেই মাথাটা বেঁচে গেছে। চশমা ভেঙে দিয়েছে, জামা ছিঁড়ে দিয়েছে। এটাই এদের গণতন্ত্রের নমুনা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগে থেকেই বহিরাগতদের জমায়েতের বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছিল। তার দাবি, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা ছিল না এবং নিহত কর্মীর পরিবারের বাড়ির নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে ছিল।
অভিষেক বলেন, “ওরা আমায় মারতে চায়, মেরে দিক। আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা না করে ফিরব না।” তিনি আরও দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টাও করছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিরাপত্তার সঙ্গে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও বিক্ষোভকারীরা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।
পরে অসুস্থ বোধ করায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “শাসকই এখন ঘাতক।”
এদিকে বিজেপি এই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এর সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। এটা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ।”
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুকান্ত মজুমদারও রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ জমা রয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনায় দেখা গেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের ভরাডুবি এবং দলের অভ্যন্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাককে ঘিরে সমালোচনা বাড়তে থাকে। ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ও আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে না পাওয়ার অভিযোগও ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে নিহত কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মাঠে নামেন অভিষেক।
এদিকে তার ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ তোলেন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- ঢাবি ক্যাম্পাসে ববি হাজ্জাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ফ্রান্সের উদ্দেশ্য দেশ ছাড়লেন ড. ইউনূস
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক, বললেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়
- ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- ক্যাশ ডিভিডেন্ডে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নিষেধাজ্ঞা
- সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক
- বর্ষসেরা সংগঠনের স্বীকৃতি পেল ঢাবির টিএফপি ফিল্ম ক্লাব
- ২৬৭০ কোটি টাকার ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা