ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরান-ইরাক যুদ্ধে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের আক্ষেপ

২০২৬ মে ৩১ ১০:৫৯:৫৯

ইরান-ইরাক যুদ্ধে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের আক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, বাগদাদে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশ এবং ইরানসংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ—দুটোই শুরু থেকেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। পরে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তার বক্তব্যের বিস্তারিত প্রকাশ করে।

সাক্ষাৎকারে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে গিয়ে বড় ধরনের ভুল করেছে। তার ভাষায়, ইরাকে যা ঘটেছে তা দেখলেই বোঝা যায়, সেই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত অযৌক্তিক। শুরু থেকেই এমন পদক্ষেপ না নিলেই ভালো হতো।

ইরান ইস্যুতেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সরাসরি জড়ানো উচিত হয়নি। তবে তার দাবি, কয়েক মাস আগে বি-২ বোমারু বিমানের হামলা না হলে ইরান এখন পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হয়ে যেতে পারত।

ট্রাম্পের মতে, সে পরিস্থিতি তৈরি হলে শুধু ইসরায়েল নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোই হুমকির মুখে পড়তে পারত। এর প্রভাব আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি অংশকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেনি। কারণ, ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল যে বাহিনীর কিছু অংশ তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সামরিক বাহিনীর অনেক অংশকে সরাসরি আঘাত করা হয়নি। এটি ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, অনেক সময় সামরিক সংঘাতে এমন ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে যে একটি দেশকে পুনর্গঠন করতে কয়েক দশক সময় লেগে যায়। তার মতে, কোনো রাষ্ট্রের পুরো কাঠামো ভেঙে পড়লে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত