ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

আল জাজিরার বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগ

২০২৬ আগস্ট ০৪ ১৪:০২:০২

আল জাজিরার বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নির্বাচন-পরবর্তী দমন-পীড়ন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে দেশটিতে আল জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি।

পাকিস্তানের বিভিন্ন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তারা আল জাজিরার ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

এদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আল জাজিরার প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সংবাদমাধ্যমটি বাছাই করা তথ্য ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার করে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) অঞ্চলের নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আজ মুজাফফরাবাদের কয়েকটি বাছাই করা ভোটকেন্দ্র থেকে আল জাজিরার নির্বাচিত প্রতিবেদন আমরা লক্ষ্য করেছি। নির্দিষ্ট সময় বেছে নিয়ে এবং নির্বাচিত কিছু ব্যক্তির পূর্বপরিকল্পিত বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে তারা এজেকে নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।’

পাকিস্তান তাদের নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলকে ‘আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে)’ নামে উল্লেখ করে।

একই বিবৃতিতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র অভিযোগও তোলে ইসলামাবাদ। ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বলতে এমন ধরনের সংবাদ প্রকাশকে বোঝায়, যেখানে পাঠকদের আকৃষ্ট বা চমকে দেওয়ার জন্য তথ্য অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা শুধু এটিই প্রমাণ করে যে, কিছু বহিরাগত পক্ষ নিজেদের স্বার্থে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং মুজাফফরাবাদ ও এজেকের জনগণের গণরায়কে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অথচ আজকের ভোটের মাধ্যমে জনগণ স্পষ্টভাবে নৈরাজ্য ও জবরদস্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই পাকিস্তানের এই প্রতিক্রিয়া আসে।

অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—উভয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের অভিযোগ, এসব অঞ্চলের একটি অংশ পাকিস্তান অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ, টেলিযোগাযোগে বিধিনিষেধ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং সাংবাদিকদের আটক ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সিপিজে বলেছে, ‘পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিস্থিতির অবনতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ইন্টারনেট বন্ধ, টেলিযোগাযোগে বিধিনিষেধ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং সাংবাদিকদের আটক ও নিখোঁজ হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে, তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

সংগঠনটি স্বাধীন সাংবাদিক রাজি তাহির ও তার সহকর্মী মুহাম্মদ সাইফের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সিপিজের দাবি, গত ১ আগস্ট ইসলামাবাদে তাদের কার্যালয় থেকে পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি এই দুই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিপিজে বলেছে, ‘স্বাধীন সাংবাদিক রাজি তাহির ও তার সহকর্মী মুহাম্মদ সাইফ ১ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরা তাদের কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তারা রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকলে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে তা স্বীকার করতে হবে, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং যদি তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে আটক রাখা হয়ে থাকে, তাহলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’

আরেক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ‘রাজি তাহির ও মুহাম্মদ সাইফ এখনো নিখোঁজ। তাদের রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়ে থাকলে তা প্রকাশ করতে হবে এবং দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। একই দিনে ইসলামাবাদে আটক হওয়া কাশ্মীরি সাংবাদিক রাজা ইকরামকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

সিপিজে আরও বলেছে, সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ শুধু পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, ‘যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ১ আগস্ট কাশ্মীর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রচারের পর পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আল জাজিরার বিরুদ্ধে "হলুদ সাংবাদিকতা"র অভিযোগ তুলেছে।’

সিপিজে আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় আংশিক ইন্টারনেট বন্ধ এবং কঠোর টেলিযোগাযোগ বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত ৩১ জুলাই... বিস্তারিত