ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশিসহ ৫০ হাজার শান্তিরক্ষীর বীরত্বকে সম্মান জানাল জাতিসংঘ

২০২৬ মে ৩০ ১৪:৩২:২১

বাংলাদেশিসহ ৫০ হাজার শান্তিরক্ষীর বীরত্বকে সম্মান জানাল জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তাল ও সংঘাতময় বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শান্তি ফেরানোর গুরুদায়িত্বে নিয়োজিত চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেনাসহ অর্ধ লক্ষাধিক শান্তিরক্ষীর অসীম বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেছে জাতিসংঘ।

গত শুক্রবার (২৯ মে) ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উদ্‌যাপনকালে বিশ্ব সংস্থাটি বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে এই সম্মুখসারির বীরদের সাহসিকতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

চলতি বছরের দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মতে, সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় শান্তিরক্ষীদের কর্মদক্ষতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে বিশ্বজুড়ে আর্থিক ও রাজনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

দিবসটি প্রসঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থিত জাতিসংঘের কার্যালয় শুক্রবার (২৯ মে) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, শান্তিরক্ষীদের অনবদ্য কাজ বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা ও শান্তি সুরক্ষায় আরও বেশি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। তাঁদের এই অবদান শান্তিতে বিনিয়োগের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আন্তর্জাতিক এই বিশেষ দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানান, বর্তমানে দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা নিরলসভাবে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন এবং শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছেন।

জাতিসংঘ প্রধান আরও উল্লেখ করেন, স্বদেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন এই শান্তিরক্ষীরা। সেখানে তাঁরা বিবাদমান পক্ষগুলোর ভেতরের উত্তেজনা প্রশমন, মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ তদারকি, গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনে নিরাপত্তা দান এবং রাজনৈতিক সংলাপের পথ সুগম করতে কাজ করছেন।

বাণীতে গুতেরেস অতীত ও বর্তমানের সকল শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। উল্লেখ্য, এই দীর্ঘ তালিকায় শুধুমাত্র গত বছরই যুক্ত হয়েছে আরও ৫৯ জন বীরের নাম।

মহাসচিব দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শান্তির মতো পবিত্র কাজের জন্য কারও জীবন চলে যাওয়া কখনোই কাম্য হতে পারে না। শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তাই এই মাঠকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল সদস্য রাষ্ট্রকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা শান্তিরক্ষা মিশনকে বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আশার আলো জাগানোর ক্ষেত্রে একটি সুপরীক্ষিত ও অত্যন্ত সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে আখ্যা দেন। তবে এর সফলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বিশ্বস্ত আর্থিক অনুদানের ওপর জোর দেন তিনি।

যেহেতু এবারের মূল স্লোগান ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’, তাই শান্তিরক্ষীরা যাতে তাঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। গুতেরেসের ভাষায়, “শান্তিরক্ষার পেছনে অর্থ ব্যয় করা মানে একটি নিরাপদ আগামী দিনের জন্য বিনিয়োগ করা। যারা বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছেন, আমাদের উচিত সবসময় তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।”

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দায়িত্ব পালনকালে এই শান্তিরক্ষীরা প্রতিনিয়ত মারাত্মক সব ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা ও কাজের দক্ষতা বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে এই বৈশ্বিক সংস্থা।

দিবসটির উদযাপনের অংশ হিসেবে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভেতরে অবস্থিত শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নিহত বীরদের স্মরণ করবেন আন্তোনিও গুতেরেস। এর পাশাপাশি কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মরণোত্তর সম্মাননা হিসেবে ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও তিনি সভাপতিত্ব করবেন।

ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানে ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ নামক মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক পুরস্কার দুটিও তুলে দেওয়া হবে। দিবসটি উদযাপনের লক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত বিশেষ ব্রিফিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত