ঢাকা, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে দেশের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ এলাকা, অর্থাৎ ২৪ থেকে ২৬টি জেলা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ আজ মরুভূমির মতো চরম সংকটের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতীয় নদী দিবস’ উপলক্ষে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা ব্যারেজ ও মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকল্পটি যে পর্যায়ে থাকা উচিত ছিল তা এখনো হয়নি। তাই নতুন করে কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের অধীন তিনটি সংস্থা আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং ওয়ারপো গত তিন মাস ধরে তিস্তা অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। তাদের গবেষণা ও পরামর্শের ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হলেও দীর্ঘ সময় এটি থমকে ছিল। বর্তমান সরকার সেটি আবার নতুনভাবে শুরু করেছে। কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নের পর দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন ও গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ১০ দিন পর পর পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি দল নিয়মিতভাবে এ বিষয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল কলকাতায় গিয়ে ফারাক্কা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন করে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেয়, যার প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সরকার নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে। তবে একটি মহল এসব আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে বিব্রত করতে মব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর মাত্র কয়েক মাসে দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়। এ সময় সরকারকে সহযোগিতা না করে অপপ্রচার ও অশালীন বক্তব্য জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে যায় না।
শেষে তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। নদী রক্ষা ও দেশের উন্নয়নে সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ফুটবলের কোচ নিয়োগ নিয়ে যা বললেন আমিনুল
- রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বসছে চাঁদ দেখা কমিটি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অষ্টম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ডুয়েট ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাবিতে বিক্ষোভের ডাক
- দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?
- পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওবিসি সুবিধা বাতিলের ঘোষণা
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস ফারুককে
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- ববির উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম সাময়িক বরখাস্ত
- শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- আইইএলটিএস ছাড়াই বাংলাদেশিদের পড়ার সুযোগ দিচ্ছে আয়ারল্যান্ড