ঢাকা, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটির ওপর চালানো ভয়াবহ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আজ ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
দুপুরে আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। এর মধ্যে একটি ছিল আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন। অপর আবেদনে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
জবানবন্দি ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। সেখানে ডাকাডাকির পরও সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এ সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ এবং আরেকটি কক্ষে বালতির ভেতর তার খণ্ডিত মাথা পাওয়া যায়।
মূলত মাদক গ্রহণ করে বিকৃত আচরণে জড়িত থাকা এই আসামি জবানবন্দিতে জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। ঘটনার দিন স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে রুমের ভেতর নিয়ে যাওয়ার পর সোহেল তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরই মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্নাও একই রুমে অবস্থান করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে রামিসার ওপর চরম নৃশংসতা চালানো হয়। সোহেল ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে এবং তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। এ ছাড়া দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল রানা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও সে অপরাধ স্বীকার করেছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বসছে চাঁদ দেখা কমিটি
- অনার্সে পড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার
- ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- নতুন করপোরেট গভর্নেন্স রুলসের খসড়া প্রকাশ, মতামত আহ্বান বিএসইসির
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- না ফেরার দেশে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার
- নতুন উপাচার্য পেল দেশের ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি আরবে ফুল ফ্রি স্কলারশিপের সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ এপ্রিল)
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ড. মামুন অর রশিদ
- ঢাবি আইবিএ’র ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত
- ডুয়েট ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাবিতে বিক্ষোভের ডাক