ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে: রাষ্ট্রপতি

২০২৬ মে ৩০ ১০:০৩:১৯

জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, জিয়ার সাদামাটা জীবনযাপন, দৃঢ় নেতৃত্ব, সততা এবং দেশগঠনে তাঁর অবদান জাতির স্মৃতিতে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (২৯ মে) দেওয়া ওই বার্তা শনিবার (৩০ মে) প্রকাশ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, গভীর দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা ও জীবনদর্শন ভবিষ্যতেও মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

শ্রদ্ধাভরে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম নির্মাতা হিসেবে জিয়াউর রহমানের অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান এবং স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস জুগিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন।

দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, রপ্তানি উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল উন্নয়নমুখী বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা সুদৃঢ় করেছিলেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তুলনামূলক স্বল্প সময় পেলেও জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম, সততা, দায়িত্ববোধ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তাঁর কর্ম ও আদর্শ আজও জাতির সামনে উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত