ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শর্তসাপেক্ষে পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের সামরিক জোটে যোগ দিতে পারবে ইসরাইলও

২০২৬ মে ৩১ ১১:৪৮:২৬

শর্তসাপেক্ষে পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের সামরিক জোটে যোগ দিতে পারবে ইসরাইলও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য একটি নতুন প্রতিরক্ষা জোট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরকে নিয়ে আলোচনাধীন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামোতে ভবিষ্যতে ইসরাইলও যুক্ত হতে পারে, তবে তার আগে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

সম্প্রতি জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফিদান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সামনে প্রকৃত সহযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি ‘সোনালি সুযোগ’ তৈরি হয়েছে।

তার মতে, এ অঞ্চলের দেশগুলোকে একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার দেখাতে হবে।

প্রস্তাবিত এই জোটে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ভবিষ্যতে ইরানকেও এ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ফিদান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে ইসরাইলও এই উদ্যোগের অংশ হতে পারবে। তার ভাষায়, ‘এই সংকটের সমাধান হলে আঞ্চলিক দেশগুলো ইসরাইলের নিরাপত্তা জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।’

অন্যদিকে আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। এ প্রসঙ্গে ফিদান জানান, সদস্য দেশগুলোর সম্মতি সাপেক্ষে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ন্যাটোর ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদার দেশগুলোর নেতা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাগত জানাতে আগ্রহী তুরস্ক।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে তুর্কি সরকার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এবং অতিথিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তার বক্তব্যে এসব দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ন্যাটো নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের জন্য পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফিদান। তিনি জানান, গত এক মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কোনো আলোচনাতেই ট্রাম্প সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকার ইঙ্গিত দেননি।

ফিদান বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের সব প্রস্তুতি এমনভাবেই এগোচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যথাযথভাবে স্বাগত জানানো যায়।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত