ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আকাশপথে নতুন যুগ, চালু হচ্ছে দেশের ৮ বিমানবন্দর

২০২৬ মে ৩১ ১৯:৫১:৫৪

আকাশপথে নতুন যুগ, চালু হচ্ছে দেশের ৮ বিমানবন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আটটি বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা সম্প্রতি জানিয়েছেন, জনসাধারণের চাহিদা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ধাপে ধাপে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। এ প্রকল্পে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, আধুনিক টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজ পরিচালনা সহজ হবে।

বর্তমানে প্রকল্পটির নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বুয়েটকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পূর্ণাঙ্গ নকশা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত হলে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিমানবন্দরটি বহু বছর ধরে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এর টার্মিনাল, কন্ট্রোল টাওয়ার ও অন্যান্য অবকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পরে দ্বিতীয় ধাপে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী ও পটুয়াখালী বিমানবন্দরসহ মোট আটটি অব্যবহৃত বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিমানবন্দর চালু হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে যাত্রী চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ