ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকৃতির সান্নিধ্যে কমে মানসিক চাপ, বাড়ে সুস্থতা

পার্থ হক

রিপোর্টার

২০২৬ জুন ১৯ ১৪:৫৮:২২

প্রকৃতির সান্নিধ্যে কমে মানসিক চাপ, বাড়ে সুস্থতা

পার্থ হক: প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটালে শরীরে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের মাত্রা কমে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পাকস্থলীর কার্যকারিতাও উন্নত হয়। এ জন্য দীর্ঘ সময় হাইকিংয়ের প্রয়োজন নেই। মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতির মাঝে কাটালেই এসব উপকার পাওয়া সম্ভব। তাই দুপুরের খাবারের পর পার্কে কিছুক্ষণ হাঁটা কিংবা সপ্তাহে কয়েক দিন খোলা পরিবেশে বসে সময় কাটানো শরীর ও মনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

শহুরে উদ্যান হোক বা বুনো মেঠোপথ সবুজের মধ্যে কিছুটা সময় হাঁটা কিংবা বিশ্রাম মুহূর্তেই দূর করে কাজের ক্লান্তি। অনেকের কাছে এই প্রশান্তি নিছক মানসিক অনুভূতি মনে হলেও বিজ্ঞান বলছে, প্রকৃতি ও মানবদেহের মধ্যে রয়েছে গভীর জৈবিক সম্পর্ক।

এই সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষণার আলোকে চারটি উপায়ে প্রকৃতি মানুষের মন ও শরীরের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় বলে উঠে এসেছে।

১. মনে প্রশান্তি আনে প্রকৃতি

দৃষ্টিসীমাজুড়ে সবুজ, গাছগাছালির গন্ধ, পাতার মৃদু মর্মরধ্বনি কিংবা পাখির কলতান এসবই শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র বা অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমকে তাৎক্ষণিকভাবে শান্ত করে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক অধ্যাপক ব্যারনেস ক্যাথি উইলিস বিবিসি রেডিও ফোরের একটি পডকাস্টে বলেন, সুন্দর কোনো স্থানে গেলে শরীরে পরিবর্তন দেখা যায়; যেমন রক্তচাপ কমে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন ধীর ও নিয়মিত হয়ে আসা যা শারীরিক প্রশান্তির ইঙ্গিত দেয়।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট সবুজ পরিবেশে কাটালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। এ কারণে কিছু অঞ্চলে ‘গ্রিন সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে, যেখানে চিকিৎসার অংশ হিসেবে মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

২. পুনরায় সক্রিয় হয় হরমোন ব্যবস্থা

শরীর ও মন শান্ত থাকলে তা হরমোনের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলে। কাজের চাপ ও মানসিক উদ্বেগে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রকৃতির সান্নিধ্য এন্ডোক্রাইন সিস্টেমকে সক্রিয় করে এসব হরমোনের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, জাপানি সাইপ্রেস বা হিনোকি তেলের ঘ্রাণ অ্যাড্রেনালিন কমায় এবং ‘ন্যাচারাল কিলার সেল’ নামের ভাইরাস-প্রতিরোধী কোষের সংখ্যা বাড়ায়।

ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিং কুও বলেন, প্রকৃতি মূলত যা শান্ত করা প্রয়োজন, তা শান্ত করে এবং যা শক্তিশালী করা প্রয়োজন, তা শক্তিশালী করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অল্প সময় প্রকৃতিতে কাটালেও তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৩. ঘ্রাণের শক্তিশালী প্রভাব

শুধু দেখা বা শোনার মাধ্যমেই নয়, ঘ্রাণের মাধ্যমেও প্রকৃতির প্রভাব অনুভব করা যায়। গাছপালা, মাটি ও ফুলের গন্ধে থাকা জৈব যৌগ শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে স্নিগ্ধ অনুভূতি তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পাইনবনের গন্ধ মাত্র ৯০ সেকেন্ডেই মনকে শান্ত করতে পারে, যার প্রভাব প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী থাকে।

শিশুদের ওপর করা গবেষণায়ও দেখা গেছে, লিমোনিন নামের শান্তিদায়ক গন্ধ ছড়িয়ে দিলে তারা দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। পাশাপাশি মাটি ও গাছপালার সংস্পর্শে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া শরীরের মাইক্রোবায়োম উন্নত করে, যা হজম, ভিটামিন তৈরি এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফাইটনসাইড নামের উদ্ভিদ-নিঃসৃত উপাদানও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

সবশেষে বলা যায়, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা সব সময় সম্ভব না হলেও ঘরোয়া পরিবেশেও তার ছোঁয়া পাওয়া যায়। জানালায় গাছ রাখা, প্রকৃতির ছবি ব্যবহার, সুগন্ধি ডিফিউজার কিংবা স্ক্রিনসেভারে সবুজ দৃশ্য এসবও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৯ জুন)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৯ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত