ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইসবগুলের ভুসি কীভাবে খেলে মিলবে বেশি উপকার? জানালেন পুষ্টিবিদরা
ডুয়া ডেস্ক: শরীর ঠান্ডা রাখা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুসি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক উপাদান। তবে এটি কীভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার ঠিক আগে পানিতে মিশিয়ে পান করাই সবচেয়ে উপকারী। দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, বরং ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে।
ইসবগুলের ভুসি কী?
ইসবগুলের ভুসি হলো সাইলিয়াম (প্ল্যান্টাগো ওভাটা) বীজের খোসা থেকে তৈরি এক ধরনের দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ। এটি প্রাকৃতিক রেচক (ল্যাক্সেটিভ) হিসেবেও পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, ইসবগুলের ভুসি হৃদ্যন্ত্র, অগ্ন্যাশয়সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিগুণ
ইসবগুলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এক টেবিল চামচ ইসবগুলে থাকে ৫৩ শতাংশ ক্যালোরি, ০ শতাংশ ফ্যাট, ১৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১৫ গ্রাম শর্করা, ৩০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ০.৯ মিলিগ্রাম আয়রন।
ইসবগুলের ভুসির উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক
ইসবগুলে থাকা মিউসিলেজিনাস উপাদান আলসারজনিত পেটব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এতে থাকা পর্যাপ্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও কার্যকর। প্রতিদিন এক গ্লাস পানিতে দুই থেকে তিন চামচ ইসবগুল মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমাতে
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্যও ইসবগুলের ভুসি উপকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আখের গুড়ের সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে সকাল ও বিকেলে খেলে উপকার মিলতে পারে।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকেরই হয়। ইসবগুল পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা অ্যাসিডিটির কারণে হওয়া জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে পাকস্থলীর বিভিন্ন অ্যাসিড নিঃসরণেও সহায়তা করে।
ডায়রিয়া প্রতিরোধে ভূমিকা
ডায়রিয়ার সময় দইয়ের সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক পাকস্থলীর সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে, আর ইসবগুল তরল মলকে ঘন করতে সহায়তা করে।
হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে
খাদ্যআঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় ইসবগুলের ভুসি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক। এটি পাকস্থলীর দেয়ালে একটি পাতলা স্তর তৈরি করে খাদ্য থেকে কোলেস্টেরল শোষণ কমায় এবং রক্তের সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে ভূমিকা রাখে। ফলে ধমনীতে ব্লক হওয়ার ঝুঁকিও কমতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ইসবগুলের ভুসিতে থাকা জিলাটিন নামের উপাদান শরীরে গ্লুকোজ শোষণের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় না এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া হজমের সমস্যা, কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন কমাতেও ইসবগুলের ভুসি উপকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসবগুল খাওয়ার সঠিক নিয়ম
ইসবগুলের ভুসি অবশ্যই পর্যাপ্ত পানির সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। এক গ্লাস পানি বা শরবতে এক চামচ ভুসি ভালোভাবে মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পান করা উচিত। দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রেখে খাওয়া ঠিক নয়।
অতিরিক্ত খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি ছাড়া অতিরিক্ত ইসবগুলের ভুসি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন দুই কর্মকর্তা
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
- আজই নিষিদ্ধ হতে পারে ঢাবির নীল দল
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- বিকাশে মিলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ভাতা
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: ঢাবি প্রো-ভিসি
- তৃতীয় লিঙ্গদের হেনস্তার শিকার ডাকসু নেতা জুবায়ের