ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা ইরানের

২০২৬ মে ২২ ১০:২৯:১৪

পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নিতে হবে দেশটিকে। তবে এসব আলোচনার মাঝেই পারমাণবিক ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান।

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ জারি করেছেন, প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না।

মোজতবা খামেনির এ নির্দেশের কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুটি ইরানি সূত্র।

তারা জানিয়েছেন, তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠালে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশ আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই খামেনির নির্দেশে সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এখনও তীব্র। ইরানি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও দাবি করেছেন, আমেরিকার প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা নতুন হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা ওটা তাদের কাছে থাকতে দেব না। প্রয়োজন হলে আমরা সেটি ধ্বংস করব।

অন্যদিকে ইসরায়েলও স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো ছাড়া যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে তারা মনে করবে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনও বন্ধ করতে হবে।

আইএইএ-র অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তখন ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কী পরিমাণ টিকে আছে তা স্পষ্ট নয়।

আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্চ মাসে বলেছিলেন যে, ওই মজুদের যা অবশিষ্ট ছিল তা ‘প্রধানত’ ইরানের ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি টানেল কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত আছে এবং তার সংস্থা বিশ্বাস করে যে সেখানে ২০০ কেজির কিছু বেশি পরিমাণ রয়েছে।

আইএইএ আরও বিশ্বাস করে যে এর কিছু অংশ নাতাঞ্জের সুবিশাল পারমাণবিক কমপ্লেক্সেও রয়েছে, যেখানে ইরানের দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ছিলযুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও চলমান শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় ইরান। বরং প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে না পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের দুটি সূত্র জানিয়েছে—তেহরান মনে করছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে সরিয়ে নিলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার মুখে দেশটি কৌশলগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। এ কারণেই খামেনি এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে হবে। তবে সেই প্রস্তাবে ইতোমধ্যেই স্পষ্ট আপত্তি জানিয়েছে তেহরান।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে পারে। শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা নতুন হামলার ইঙ্গিত বহন করছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওটা তাদের কাছে থাকতে দেব না। প্রয়োজন হলে আমরা সেটি ধ্বংস করব।”

অন্যদিকে ইসরায়েলও জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো না হলে তারা যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাপ্তি মেনে নেবে না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, শুধু ইউরেনিয়াম নয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনও বন্ধ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। বর্তমানে সেই মজুদের কতটা অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।

আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্চ মাসে জানিয়েছিলেন, অবশিষ্ট ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইরানের ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের একটি টানেল কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটির বিশ্বাস, সেখানে ২০০ কেজির কিছু বেশি ইউরেনিয়াম থাকতে পারে।

এছাড়া আইএইএ মনে করছে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সেও কিছু পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। ওই স্থাপনাটিতে ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ছিল।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত