ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হামের টিকা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪% বেশি সম্পন্ন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬ মে ২১ ১৯:৩৬:০৬

হামের টিকা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪% বেশি সম্পন্ন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনে হামের টিকাদানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪ শতাংশ বেশি শিশু টিকার আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তবে এখনও যারা টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের প্রতিটি এলাকায় খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেতনতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতাদের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ২০২০ সালের পর দেশে কার্যকর কোনো নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ছিল না। আগের সরকারের সময়ে এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকার বিশেষ কোনো কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, মার্চের শেষ দিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় দেশে টিকার মজুত প্রায় নেই।

তিনি জানান, পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা হয় এবং বর্তমানে পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে।

টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ এপ্রিল ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু হয়, যা গতকাল পর্যন্ত চলমান ছিল। ভবিষ্যতেও নিয়মিত টিকাদান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো শিশু যাতে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে প্রতিটি এলাকায় মাইকিং করে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এর পেছনে টেন্ডারবাজ সিন্ডিকেট জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে গড়ে ওঠা দুর্নীতির চক্র এখন চিকিৎসকদের টার্গেট করছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনাও এই চক্রের অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কোনো অবস্থাতেই দুর্বল করা যাবে না। শিশুদের সুরক্ষায় এ কার্যক্রম আরও শক্তিশালীভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

সেমিনারের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমী এবং আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত