ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘কৃষিপণ্য রপ্তানিতে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় সুযোগ’

২০২৬ মে ২১ ১৯:০৭:২৫

‘কৃষিপণ্য রপ্তানিতে রয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় সুযোগ’

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন বাধা ধীরে ধীরে দূর করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ করে আমসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রকে আরও সহজ ও গতিশীল করার ওপর জোর দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আম রপ্তানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের কৃষিখাত অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাময় খাত, যেখানে কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি হলেও নীতিগত ও আইনগত কিছু জটিলতার কারণে এ খাত এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

মন্ত্রী জানান, সরকার কৃষি ও কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ঋণ মওকুফ এবং খাল খননের মতো উদ্যোগ কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কৃষিখাতে সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি অপরিহার্য। উন্নত দেশগুলোও এ খাতে বড় ধরনের ভর্তুকি দিয়ে থাকে। পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও পণ্যের মান বজায় রাখাকে তিনি সফল রপ্তানির মূল শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

চীনে কাঁঠাল রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটি বাংলাদেশ থেকে বড় পরিসরে কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এর জন্য আধুনিক প্যাকিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দেশীয় ফলের স্বাদ ও গুণগত মান বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানীদের ফলের রং, স্থায়িত্ব ও সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানোর ওপর কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ফলের স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট হয়—এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন করা উচিত নয়।

রপ্তানি খাতের বড় একটি সমস্যা হিসেবে উচ্চ এয়ার কার্গো ভাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করবে।

খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু স্বাদ নয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

সবশেষে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হবে। এ লক্ষ্যে উৎপাদক, রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম। আরও বক্তব্য দেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মেদ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. সেলিম খান। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে মন্ত্রী উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) অনুসরণকারী আম উৎপাদনকারীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন এবং আম রপ্তানির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত