ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
৭ ব্রোকারেজ হাউজে জরুরি তল্লাশির নির্দেশ বিএসইসির
নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্জিন ঋণের বিপরীতে বড় অঙ্কের অনাদায়ি ক্ষতি, অর্থাৎ নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের বাধ্যতামূলক মাসিক প্রতিবেদন দাখিল না করায় দেশের সাতটি বড় ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের আর্থিক অবস্থা, মার্জিন ঋণ ও সামগ্রিক কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) সরেজমিন পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পাঠানো এক চিঠিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ও তদন্তের আওতায় আসা ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো— সলতা ক্যাপিটাল, বেক্সিমকো সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডস, স্নিগ্ধা ইক্যুইটিজ, সোনালী সিকিউরিটিজ, ট্রেড এক্স সিকিউরিটিজ এবং এসবিআই সিকিউরিটিজ।
বিএসইসির মতে, শেয়ারবাজারের তদারকি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নেগেটিভ ইক্যুইটি এবং আনরিয়েলাইজড লস সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই বোঝা যায় কোনো হাউজ অতিরিক্ত আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে কি না কিংবা তাদের গ্রাহকদের অর্থ কতটা নিরাপদে আছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সাতটি প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি বা অবহেলা করছে, যা বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে এবং বাজার নজরদারিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিএসই কর্তৃপক্ষকে চারটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। প্রথমত, অবিলম্বে ওই সাত ব্রোকারেজ হাউজে অন-সাইট বা সরেজমিন তদন্ত চালিয়ে তাদের প্রতিবেদন না দেওয়ার প্রকৃত কারণ ও ভেতরের লোকসানের বাস্তব চিত্র উদঘাটন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বকেয়া রিপোর্ট জমা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং চতুর্থত, বিএসইসির চিঠি পাওয়ার পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই পরিদর্শনের বিস্তারিত ফলাফল, হাউজগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও ঝুঁকি এবং ডিএসইর নিজস্ব সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে হবে।
এই বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিয়ম ভঙ্গকারী এই সাতটি ব্রোকারেজ হাউজে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য ডিএসইকে স্পষ্ট নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তদন্তে কী কী অনিয়ম সামনে এসেছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে— সে বিষয়ে ডিএসইর মতামত ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুতই কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা