ঢাকা, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বছরের পর বছর কারখানা বন্ধ, তবুও মেঘনা পেটের শেয়ার দর বেড়েছে ২২৫%

২০২৬ মে ২০ ১৫:৫৭:১৮

বছরের পর বছর কারখানা বন্ধ, তবুও মেঘনা পেটের শেয়ার দর বেড়েছে ২২৫%

অর্থনীতি প্রতিবেদক: দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ এবং ধারাবাহিক লোকসানের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার দরে অস্বাভাবিক লাফ দেখা গেছে। গত চার মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ২২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্ধ কারখানার শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে সম্প্রতি কোম্পানিটিকে কোয়েরি নোটিশ পাঠিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে মেঘনা পেটের প্রতি শেয়ারের দর ছিল ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। সেখান থেকে লাফিয়ে গত সোমবার (১৮ মে) শেয়ারটির দাম সর্বোচ্চ ৫৮ টাকা ৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকায়। তবে এর পরের দিন অর্থাৎ ১৯ মে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ৫৭ টাকায় নেমে আসে।

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি মূলত পলিথিন টেরেফথালেট বা পেট বোতল তৈরি করত। তবে ডিএসইর একটি পরিদর্শক দলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে কোম্পানিটির কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের উৎপাদন বন্ধ এবং পুঞ্জীভূত লোকসানের কারণে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এটি শেয়ারবাজারের সর্বনিম্ন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। এমন দুর্বল আর্থিক অবস্থার মধ্যেও শেয়ারের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ডিএসইর পাঠানো নোটিশের জবাবে মেঘনা পেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই দর বৃদ্ধি ও লেনদেন বাড়ার পেছনে তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী মেঘনা পেটের শেয়ার প্রতি লোকসান আরও বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৬৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল শূন্য দশমিক ৫৩ টাকা। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এবং বাকি ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

কোম্পানিটির সর্বশেষ ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে হিসাব বহি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের কথা তুলে ধরেছেন নিরীক্ষক। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে হিসাবের বই বা নথিপত্র সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হলেও কাগজপত্রে ৯৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি দেখানো হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটি 'ল্যাম ইন্টারন্যাশনাল ইন্সপেকশন লিমিটেড' নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সম্পত্তি পুনর্মূল্যায়ন করেছে, যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদিত কোনো মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান নয়। একই সাথে কোম্পানিটি আর্থিক বিবরণীতে ৩৮ লাখ টাকা প্রশাসনিক ব্যয় দেখালেও হিসাবের সঠিক খাতা না থাকায় নিরীক্ষক দল এই খরচের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া বন্ধ কারখানার শেয়ারের এমন লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?

দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮... বিস্তারিত