ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ৩ লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার

২০২৬ মে ১৯ ১৯:১০:৫৩

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ৩ লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে মাঠে নেমেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবং নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা।

মূলত বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বাজার সংস্কার— এই তিনটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শেয়ারবাজারকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) যৌথ সহযোগিতায় এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা শেয়ারবাজারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

এই কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো। আর সে কারণেই পুরো বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করার পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙার কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রান্তিক অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে দেশের জেলা পর্যায়ে বিশেষ বিনিয়োগ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বিনিয়োগের পথ সুগম করতে বিশেষ সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক জানিয়েছেন যে, শেয়ারবাজারের উন্নয়নে টাস্কফোর্সের সুপারিশ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনির চিন্তাভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিকভাবে করণীয় বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে এবং রোডম্যাপের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই ও দক্ষ বাজারের স্বার্থে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তত্ত্বাবধানে অনলাইন ও অফলাইন— উভয় মাধ্যমেই এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারে সচেতন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করবে।

অন্যদিকে, বাজারের দীর্ঘদিনের সংকট ‘স্বচ্ছতার অভাব’ দূর করতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে সম্পূর্ণ যোগ্য এবং দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে কাঠামোগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

এই রোডম্যাপের আরেকটি যুগান্তকারী ও বহুল আলোচিত অংশ হলো একটি স্বাধীন শেয়ারবাজার সংস্কার কমিশন গঠন। এই কমিশন বাজারের বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করবে। এর পাশাপাশি গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজারে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বড় অনিয়ম ও জালিয়াতি তদন্তে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের পরিকল্পনাও এতে যুক্ত রয়েছে।

এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. এম মাসরুর রিয়াজ মন্তব্য করেছেন যে, এই রোডম্যাপটি আরও আগেই করা উচিত ছিল। তবে এটি শুধু সাময়িক বাজার পুনরুদ্ধারের জন্য না করে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ভূমিকা কেমন হবে— সেই দূরদর্শী ভাবনা থেকে প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকেই অর্থ মন্ত্রণালয় এই সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ করছে। কমিশনের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, কারণ ইশতেহার ঘোষণার আগে থেকেই কমিশন এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। বাকি ৩০ শতাংশ কাজ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত