ঢাকা, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আইসিবি’র শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের টাকা ফেরত চায় বিএসইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের দাবিহীন ডিভিডেন্ড নিয়ে গঠিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ থেকে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-কে দেওয়া ২২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তহবিলের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিএসইসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী, সিএমএসএফ-কে আইসিবি থেকে ধাপে ধাপে এই তহবিল প্রত্যাহারের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে শেয়ারবাজারে তারল্য সরবরাহ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে সিএমএসএফ-এর নগদ তহবিলের অন্তত ৫০ শতাংশ বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্জিন ঋণ হিসেবে দেওয়ার বিধান ছিল। সেই নিয়ম মেনেই রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ ব্যাংক আইসিবি কয়েক দফায় সিএমএসএফ থেকে ২২৫ কোটি টাকা নিয়ে সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগ করেছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের তহবিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের আগের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখন থেকে এই তহবিল কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ হিসেবে দেওয়া যাবে না; এটি কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তির কাজেই ব্যবহৃত হবে। প্রস্তাবিত ‘সিএমএসএফ আইন ২০২৫’-এর আওতায় তহবিলটিকে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা এর পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা আরও বাড়াবে।
সিএমএসএফ-এর হেড অব অপারেশনস ওয়াসি আজম এই বিষয়ে জানান, কমিশনের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা আইসিবির সাথে বৈঠক করেছেন এবং তহবিল ফেরতের বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। বিনিয়োগকারীরা যেন যেকোনো সময় তাদের দাবি করা ডিভিডেন্ড ফেরত পান, সেজন্যই এই টাকা নগদায়ন করে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।
বিএসইসি সিএমএসএফ-এর মূল হিসাবগুলো বেসরকারি ব্যাংক থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে স্থানান্তরেরও নির্দেশ দিয়েছে। সেই মোতাবেক সিএমএসএফ ইতোমধ্যে সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে নতুন হিসাব খুলেছে এবং আইসিবি থেকে প্রাপ্ত টাকা অগ্রণী ব্যাংকের এফডিআর হিসেবে রাখা হবে। এছাড়া এক্সিম ব্যাংকে আটকে থাকা তহবিল উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
২০২১ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে সিএমএসএফ এ পর্যন্ত মোট ৭২৭ কোটি টাকা নগদ এবং ১৪.৫৪ কোটি শেয়ার সংগ্রহ করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই শেয়ারগুলোর বাজারমূল্য ছিল ৯৩৯.২১ কোটি টাকা। তহবিলটি ইতোমধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে ৩২৯.০২ কোটি টাকা নগদ ও শেয়ার আকারে বুঝিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি টাকার লভ্যাংশের দাবি নিষ্পত্তি করছে সিএমএসএফ।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- বাংলাদেশিদের স্কলারশিপ দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স ইউনিভার্সিটি, আবেদন শুরু
- এমপিও শিক্ষকদের ঈদ বোনাস কবে, যা জানা গেল
- অনার্সে পড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার
- ঈদকে সামনে রেখে মুনাফা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা
- পদত্যাগ করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ চেয়ারম্যান ও ৭ ডিনের পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?
- সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানো যাবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর, শুরু হচ্ছে লম্বা ছুটি
- নতুন করপোরেট গভর্নেন্স রুলসের খসড়া প্রকাশ, মতামত আহ্বান বিএসইসির
- ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বসছে চাঁদ দেখা কমিটি