ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৫০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে টেকনো ড্রাগস

২০২৬ মে ১৭ ০৮:৫২:১৬

৫০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়ছে টেকনো ড্রাগস

নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৫০ কোটি টাকার কুপন-বেয়ারিং বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠান টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বৃদ্ধি এবং মুনাফায় বড় পতনের মুখে থাকা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

পিএসআই অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রস্তাবিত বন্ডটির ২৫ শতাংশ রিডিমেবল (নগদায়নযোগ্য) এবং ৭৫ শতাংশ কনভার্টিবল (শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য) হবে। আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বন্ডটির ইস্যু ম্যানেজার ও অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।

টেকনো ড্রাগসের কোম্পানি সচিব এস এম আবু তালহা সিদ্দিক জানান, বন্ড ছাড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো উচ্চ সুদের ব্যাংক দায়গুলো আরও দক্ষতার সাথে ব্যবস্থাপনা করা। তবে এমন এক সময়ে এই বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো, যখন প্রায় ১৫০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য ওয়ান ব্যাংক পিএলসি অর্থ ঋণ আদালতে টেকনো ড্রাগস এবং এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আদালত ইতোমধ্যে পরিচালকদের হাজির হওয়ার জন্য পাবলিক নোটিশ বা সমন জারি করেছে। এই আইনি বিরোধের বিষয়ে কোম্পানি সচিব জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের আলোচনা চলছে এবং দ্রুতই বিষয়টির সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতির আওতায় আইপিও এর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল টেকনো ড্রাগস। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিওর অর্থ থেকে ৩১.৪৭ কোটি টাকা নরসিংদী ও গাজীপুর কারখানার যন্ত্রপাতি কেনা ও নির্মাণ কাজে ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে ২৫ কোটি টাকা ওয়ান ব্যাংককে এবং বাকি অংশ লংকাবাংলা ফিন্যান্স, অ্যালায়েন্স ফিন্যান্স ও আইডিএলসি ফিন্যান্সকে দেওয়া হয়েছিল।

এত বিপুল তহবিল সংগ্রহের পরও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা আরও দুর্বল হয়েছে। এই সময়ে টেকনো ড্রাগসের রাজস্ব ১১ শতাংশ কমে ২৩২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং নিট মুনাফা ১৬ শতাংশ কমে হয়েছে ১৫.৫৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ শেষে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৫৪ শতাংশ বেড়ে ২৩৯.৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত