ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
ঈদ মৌসুমে বাটার বাজিমাত
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং তীব্র মূল্যস্ফীতির চাপ সামলে বছরের শুরুতেই দারুণ ব্যবসায়িক চমক দেখিয়েছে দেশের জুতা বাজারের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটি রেকর্ড পরিমাণ পণ্য বিক্রি ও মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত বছরের শুরুতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ায় উৎসবের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির ব্যবসায়ে এই বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে।
গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক ডিজাইন এবং নতুন পণ্যের বৈচিত্র্যের ওপর ভর করে বাটার সামগ্রিক বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বছরের শুরুতেই ঈদ মৌসুম থাকায় জুতার বাজারে যে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগাতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে আনা নতুন কালেকশন গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি কোম্পানির বিস্তৃত রিটেল নেটওয়ার্ক এবং বিকল্প বিক্রয় চ্যানেলগুলোর সম্প্রসারণ এই রেকর্ড বিক্রিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারে কাঁচামালের দাম ও ইউটিলিটি বিল বাড়লেও বাটা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করেছে। রাজস্ব বৃদ্ধি এবং দূরদর্শী ব্যয়ের কৌশলের কারণে শেষ পর্যন্ত তিন মাসে বাটার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) গত বছরের ২৬.৯২ টাকা থেকে বেড়ে এবার ২৭.১৪ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এবারের আর্থিক প্রতিবেদনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো কোম্পানির নগদ প্রবাহের শক্তিশালী অবস্থান। গত বছরের প্রথম তিন মাসে যেখানে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৪৮.০৬ টাকা, এবার তা একলাফে ৪০.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭.৫৯ টাকায়। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্রি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধে নিখুঁত ক্যাশ ব্যবস্থাপনার কারণেই নগদ প্রবাহে এই বড় উন্নতি সম্ভব হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র প্রতিযোগিতা ও মূল্যস্ফীতির মধ্যেও বাটা তাদের মধ্যম সারির মূল্য নির্ধারণ কৌশলের কারণে বাজারে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)