ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রেকর্ড মন্দায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো; মুনাফা কমলো ৩৪%

২০২৬ মে ১৬ ২০:১৮:২৭

রেকর্ড মন্দায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো; মুনাফা কমলো ৩৪%

নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তি কর এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তীব্র চাপের মুখে পড়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) কোম্পানিটির সিগারেটের বিক্রি প্রায় ১৪ শতাংশ বা ১৫০.৭ কোটি স্টিক কমে গেছে। একই সঙ্গে এই তিন মাসে তামাক জায়ান্টটির নিট মুনাফায় ৩৪ শতাংশ বড় ধস নেমেছে।

স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিএটি বাংলাদেশ-এর নিট মুনাফা ৩৪ শতাংশ কমে ২০৯.৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩.৮৮ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫.৮৯ টাকা (মুনাফা ছিল ৩১৭.৯৫ কোটি টাকা)।

ব্যবসায়িক মন্দার এই খবর প্রকাশের পর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ার দর ১.৫২ শতাংশ কমে ২১৪ টাকায় নেমে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিএটি বাংলাদেশ ৯২৩.১ কোটি স্টিক সিগারেট বিক্রি করেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১,০৭৩.৯ কোটি স্টিক। বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে এই প্রান্তিকে কোম্পানির মোট রাজস্ব ৯.০৮ শতাংশ কমে ৮,৭২৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। দেশের তামাক খাতের এই চিত্র মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের খরচ কমিয়ে দেওয়া, বাড়তি করের চাপ কিংবা অপেক্ষাকৃত কমদামী বিকল্প সিগারেটের দিকে ভোক্তাদের ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মুনাফা কমে যাওয়ার বিষয়ে বিএটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, সিগারেট বিক্রির পরিমাণ এবং সামগ্রিক রাজস্ব কমে যাওয়ার কারণেই মূলত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হ্রাস পেয়েছে।

আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির আর্থিক ব্যয় সামান্য কমে ৪৯.২৪ কোটি টাকা হলেও, পরিচালন ব্যয় প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়ে ২৩১.৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছর ছিল ১৬৪.৭৮ কোটি টাকা।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি কার্যকর নগদ প্রবাহ মাইনাস ২২.৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ছিল মাইনাস ১৭.৬২ টাকা। তবে শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে ১০৩.৩৮ টাকা হয়েছে।

নগদ প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানায়, সিগারেট বিক্রি থেকে নগদ আদায় কমে যাওয়া এবং কার্যকরী মূলধনের জোগান দিতে নেওয়া স্বল্পমেয়াদী ঋণের বিপরীতে উচ্চ সুদ দিতে হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

লাভ-ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত মোট ৮,৭২৫ কোটি টাকার মোট বিক্রির বিপরীতে বিএটি বাংলাদেশ সরকারকে সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট বাবদ ৭,২৯২ কোটি টাকা প্রদান করেছে। এছাড়া আয়কর বাবদ ব্যয় করেছে ২৮৫ কোটি টাকা। যেখানে ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ দেওয়া হয়েছিল ৭,৭৩৩.১০ কোটি টাকা।

প্রথম প্রান্তিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে বিএটি-র মোট রাজস্ব এসেছে ৮,৪১৬ কোটি টাকা এবং থার্ড-পার্টি সেলস থেকে আয় হয়েছে ২৪৬.২২ কোটি টাকা। এই সময়ে উৎপাদিত সিগারেট বা তৈরি পণ্য রপ্তানি থেকে কোনো আয় না হলেও তামাক পাতা রপ্তানি করে ৫৯.১৩ কোটি টাকা আয় করেছে কোম্পানিটি।

বিএটি বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের যাবতীয় কর ও শুল্ক পরিশোধের পর ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির নিট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১,৪৩২.৭৮ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১,৮৬৪ কোটি টাকা।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ এপ্রিল)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ এপ্রিল)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে ফের কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে প্রতি... বিস্তারিত