ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
ডেল্টা লাইফের অডিটরের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে বিএসইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বিমা খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের টানা পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য গোপন ও অনিয়মের চিত্র ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এই অনিয়মগুলো শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ‘এম. জে. আবেদিন অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’-এর পার্টনার কামরুল আবেদিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে (এফআরসি) আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ডেল্টা লাইফের ২০১৬ থেকে ২০২০ হিসাব বছর পর্যন্ত করা এক বিশেষ নিরীক্ষায় একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। তবে তৎকালীন অডিটর ‘ম্যাব অ্যান্ড জে পার্টনার্স চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’ এবং পরবর্তী নিরীক্ষক এম. জে. আবেদিন অ্যান্ড কোং-এর এনগেজমেন্ট পার্টনার কামরুল আবেদিন তাদের অডিট রিপোর্টে এসব অসংগতি এড়িয়ে যান এবং প্রতিষ্ঠানকে কোনো ত্রুটি নেই বলে ‘আনমডিফায়েড অপিনিয়ন’ বা অপরিবর্তিত মতামত দেন।
বিশেষ অডিটে দেখা গেছে, ডেল্টা লাইফ ১২৪ কোটি ২ লাখ টাকার বিমা গ্রাহকদের অনিষ্পন্ন দাবির বিপরীতে প্রয়োজনীয় কোনো প্রভিশন বা সঞ্চিতি রাখেনি। ফলে কাগজে-কলমে কোম্পানির মুনাফা এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কৃত্রিমভাবে অনেক বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। একই সাথে কোম্পানির নিজস্ব ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার তথ্যও উঠে এসেছে। আরও একটি বড় অনিয়ম হলো, ২৫৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল মূল্যায়নের উদ্বৃত্ত অর্থ কোম্পানির ব্যালেন্স শিটের ইক্যুইটি অংশে না দেখিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ডেল্টা লাইফের মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২২.৭৭ শতাংশই রয়েছে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হলেও অডিটর তা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন।
বিএসইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, নিরীক্ষকের এই চরম ব্যর্থতার কারণে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। এই ঘটনা দেশের করপোরেট নিরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন জানান, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অডিট রিপোর্টের ওপর নির্ভরশীল। অডিটরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ধ্বংসের মুখে পড়বে। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম নিশ্চিত করেছেন যে, এফআরসি-র পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে কমিশন পরবর্তীতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ছাদখোলা গাড়িতে লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গাড়িটি কার?