ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা

২০২৬ মে ১৪ ২০:০৬:৩৫

ফরচুন সুজের চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘোষিত ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থতা এবং তালিকাভুক্তি ফি পরিশোধ না করায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফরচুন সুজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর বড় অংকের আর্থিক জরিমানা আরোপ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সোমবার অনুষ্ঠিত কমিশনের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সভায় পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ থাকা কোম্পানিগুলোর মূলধন উত্তোলনে শর্ত শিথিল এবং ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় নতুন সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসি জানায়, ফরচুন সুজ ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও মোট ১৬ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা বিতরণ করেনি। এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের গত তিন বছরের বকেয়া তালিকাভুক্তি ফি বাবদ ১৮ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতেও ব্যর্থ হয়েছে কোম্পানিটি।

এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া পরিচালক মো. আমানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, খসরুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকসানা রহমানকে ৫০ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সিএফও জামিল আহমেদ চৌধুরীকে ১০ লক্ষ টাকা এবং সাবেক ও বর্তমান কোম্পানি সচিবদের ৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বাজারের স্বার্থে নীতিমালায় বড় কিছু পরিবর্তন এনেছে কমিশন। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও যেসব কোম্পানির পর্ষদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক পুনর্গঠিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। বিএসইসি লক্ষ্য করেছে যে, পুনর্গঠিত পর্ষদের নতুন পরিচালকদের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয় না, ফলে কোম্পানিগুলো মূলধন সংগ্রহে বা বোনাস শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়ে। এই বাধা দূর করতে পুনর্গঠিত পর্ষদ সম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া তালিকাভুক্ত 'এ' ক্যাটাগরির ব্যাংকগুলোর জন্য ডিভিডেন্ড বিতরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে কমিশন। এখন থেকে এসব ব্যাংক ডিভিডেন্ড বিতরণের জন্য তাদের নিজস্ব ব্যাংকেই ডিভিডেন্ড অ্যাকাউন্ট বা লভ্যাংশ হিসাব পরিচালনা করতে পারবে। এতে ব্যাংকগুলোর পরিচালন জটিলতা কমবে এবং ডিভিডেন্ড বিতরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হবে বলে আশা করছে বিএসইসি। বিএসইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ফরচুন সুজ-কে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের বকেয়া ডিভিডেন্ড ও স্টক এক্সচেঞ্জের ফি পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত