ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে বড় সংস্কার: তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিএসইসি-র কঠোর আইন

২০২৬ মে ১৬ ২০:৪১:৩৭

শেয়ারবাজারে বড় সংস্কার: তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিএসইসি-র কঠোর আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে একটি নতুন করপোরেট গভর্নেন্স বা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত এই কাঠামোটি ২০১৮ সালের বিদ্যমান করপোরেট গভর্নেন্স কোডের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। এতে পরিচালনা পর্ষদ গঠন, স্বতন্ত্র পরিচালকদের যোগ্যতার মানদণ্ড বৃদ্ধি এবং পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীদের শেয়ার ধারণের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এছাড়া শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠান যেমন— স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, ক্লিয়ারিং কোম্পানি, ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের একযোগে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রকাশিত এই খসড়া বিধিমালার ওপর আগামী ৩১ মে পর্যন্ত অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শ আহ্বান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনার পর এই ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি। নতুন এই নিয়মাবলী স্টক এক্সচেঞ্জের মেইন বোর্ড, এসএমই বোর্ড এবং অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৫ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন হতে হবে। তবে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পরিচালক সংখ্যা হবে ১০ জন এবং প্রতিটি পর্ষদে অন্তত একজন নারী পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়া অন্য সব উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক পরিচালককে ন্যূনতম ২ শতাংশ এবং মনোনীত পরিচালকদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে।

নতুন খসড়ায় স্বতন্ত্র পরিচালকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে পর্ষদের মোট সদস্যের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ অথবা ন্যূনতম ৩ জন, যেটি বেশি হয়, স্বতন্ত্র পরিচালক হতে হবে। বিদ্যমান নিয়মে এই বাধ্যবাধকতা ছিল মোট পর্ষদের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ। এছাড়া স্বার্থের সংঘাত রোধে কোনো ব্যক্তি যদি বর্তমানে কোনো স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি প্রতিষ্ঠান, স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার বা মার্চেন্ট ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকেন, তবে তিনি কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন না।

শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রতিটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবং ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স প্রধান নিয়োগ করতে হবে। এই শীর্ষ পদগুলোতে থাকা কোনো ব্যক্তি একই সাথে অন্য কোনো কোম্পানিতে নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

তবে খরচ কমানো বা কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজনে কমিশনের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে, একই গ্রুপের অন্য কোনো কোম্পানিতে সিএফও বা কোম্পানি সচিব একই পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া এমডি, সিইও, কোম্পানি সচিব, সিএফও এবং অডিট প্রধানকে পদ থেকে অপসারণ করা যাবে না এবং এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কমিশন এবং স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাতে হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে সুশাসনকে আধুনিকায়ন করা এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ এপ্রিল)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ এপ্রিল)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে ফের কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে প্রতি... বিস্তারিত