ঢাকা, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ক্রেডিট ব্যুরো খাতে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের বড় বিনিয়োগ  

২০২৬ মে ১৮ ১৯:৩৫:১১

ক্রেডিট ব্যুরো খাতে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের বড় বিনিয়োগ
 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাধারণ বীমা কোম্পানি প্রগতি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি দেশের উদীয়মান বেসরকারি ক্রেডিট ব্যুরো খাতে প্রবেশের মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত কোম্পানিটির একটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে (পিএসআই) এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় প্রস্তাবিত ফার্স্ট ন্যাশনাল ক্রেডিট ব্যুরো লিমিটেডে (এফএনসিবিএল) ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স নতুন এই ক্রেডিট ব্যুরোটির ৩০ শতাংশ মালিকানা লাভ করবে। ক্রেডিট ব্যুরোটি বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যবসায়িক লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

দেশের আর্থিক খাতের অবকাঠামো আধুনিকীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান উদ্যোগকে কাজে লাগাতে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের এই পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই ঘোষণার পর ডিএসইতে প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের মূল্যে সামান্য সংশোধন দেখা গেছে। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ০.৮৩% কমে ৭১.৯০ টাকায় লেনদেন শেষ হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা সম্মতিপত্র পেয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ফার্স্ট ন্যাশনাল ক্রেডিট ব্যুরো লিমিটেড (এফএনসিবিএল)। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা ২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এফএনসিবিএল-এর পাশাপাশি বিডি ক্রেডিট ব্যুরো, ট্রান্সইউনিয়ন ক্রেডিট ব্যুরো, বিকাশ ক্রেডিট ব্যুরো এবং সিটি ক্রেডিট ব্যুরোকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ওপর নির্ভর করে আসছে। সিআইবি ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের ইতিহাস ট্র্যাক করলেও, খাত সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে এর পরিধি সীমিত এবং এটি ঋণগ্রহীতাদের সামগ্রিক আর্থিক আচরণ পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না।

নতুন এই বেসরকারি ব্যুরোগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিস্তারিত 'ক্রেডিট স্কোর' প্রদানের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের ঋণ মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গত বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তথ্যের ঘাটতি বা অসমতা দূর করা, ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ানো। এর ফলে চূড়ান্তভাবে খেলাপি ঋণের হার এবং ঋণ গ্রহণের খরচ উভয়ই কমে আসবে।

চলতি ২০২৬ আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৬৩ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১.০৫ টাকা। মূলত পরিচালন ও অন্যান্য আয় বৃদ্ধির ওপর ভর করে কোম্পানিটির মুনাফায় এই বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এছাড়া, কোম্পানিটি ২০১৫ আর্থিক বছরের জন্য ২৭% ক্যাশ এবং ৩% স্টক ডিভিডেন্ড প্রদানের সুপারিশ করেছে। গত বছর জুড়ে কোম্পানিটি স্থিতিশীল আয় এবং একটি শক্তিশালী ব্যালেন্স শিট বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৯.৬১ টাকায়।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত