ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান! কার টাকা ফেরত মিলবে, কার মিলবে না?
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই খাতের জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস মেলার পর, গত ১২ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে গণমাধ্যমে এই খবরটি এলেও শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানে না।
চূড়ান্তভাবে অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ফাস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্স ছাড়া বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত।
বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই অবসায়ন প্রক্রিয়া যদি পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হয়, তবে বিএসইসির কোনো আপত্তি নেই। যেহেতু সরকারের বাজেট থেকে অর্থ এনে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে। তবে বিএসইসি চায়, 'ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫'-এর ৭৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অপরাধী বা দায়ী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, অর্থাৎ বাজারমূল্য ও ফেসভ্যালুর মধ্যে যেটি বেশি, তা যেন ফেরত দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি এখনো বিএসইসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অবসায়ন কার্যক্রম শুরুর আগে আমানতকারীদের জন্য একটি বিশেষ তহবিল বা পরিশোধ স্কিম ঘোষণা করা হবে। এই স্কিমের আওতায় যেসব ক্ষুদ্র আমানতকারীর সঞ্চয়ের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার মধ্যে, তারা তাদের মূলধনের পুরো টাকা ফেরত পাবেন, তবে কোনো সুদ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ১০ লাখ টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে তহবিলের প্রাপ্যতা ও জমার পরিমাণ বিবেচনা করে আনুপাতিক হারে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ করা হবে।
এর আগে গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিএসইসি স্পষ্ট করে বলেছিল, এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান সংকটের জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোনোভাবেই দায়ী নন। এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী 'ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫'-এর ধারা-৭৭ এ উল্লেখিত ব্যক্তিরা। তাই সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় অবসায়নের সব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা, ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ রাখা, দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ ও জামানত বাজেয়াপ্ত করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম মূল্য নিশ্চিত করা এবং শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য ঘোষণা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়ন না করার দাবি জানিয়েছে বিএসইসি।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- অনার্সে পড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার
- ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে বসছে চাঁদ দেখা কমিটি
- ডিগ্রি ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- নতুন করপোরেট গভর্নেন্স রুলসের খসড়া প্রকাশ, মতামত আহ্বান বিএসইসির
- সমকামিতার অভিযোগে দুই ছাত্রদল নেতাসহ ৪ শিক্ষার্থীর সিট বাতিল
- শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর, শুরু হচ্ছে লম্বা ছুটি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- না ফেরার দেশে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার
- নতুন উপাচার্য পেল দেশের ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি আরবে ফুল ফ্রি স্কলারশিপের সুযোগ