ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
২৯ কোটি টাকার কোম্পানিতে ৩২০ কোটি টাকার লোকসান!
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি মালিকানাধীন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাত্র ২৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটি গত পাঁচ অর্থবছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা লোকসান গুনেছে।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের মতে, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝাই প্রতিষ্ঠানটিকে এই খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ১৫৮ টাকা ৫৩ পয়সা, যা অঙ্কের হিসাবে প্রায় ১০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এই বিশাল লোকসানের কারণে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ওই অর্থবছরে কোনো ডিভিডেন্ড না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মূলত ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকেই টানা লোকসানের বৃত্তে আটকে আছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। ডিএসইর বার্ষিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কোম্পানিটির লোকসান ছিল ৩৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা পরের অর্থবছরে কিছুটা কমে ২০ কোটি ৯১ লাখ টাকায় নামে। তবে ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে লোকসানের গ্রাফ আবার ওপরে উঠতে থাকে; ওই বছর লোকসান হয় ২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৩ কোটি ৫২ লাখ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা লোকসান করে প্রতিষ্ঠানটি।
টানা কয়েক বছরের এই ধারাবাহিক লোকসানের ধাক্কায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) বর্তমানে ১৪৪ টাকা ৯৭ পয়সা ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। এর ফলে কোম্পানির মোট নিট সম্পদও ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিটি যদি এখন অবসায়নে বা বন্ধ হয়ে যায়, তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ফেরত দেওয়ার মতো কোনো অবশিষ্ট সম্পদ আর থাকবে না।
কোম্পানির এই চলমান সংকট প্রসঙ্গে ন্যাশনাল টির পরিচালক শাকিল রিজভী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষি ব্যাংকের ঋণ। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মতোই উচ্চ সুদে এই ঋণ নেওয়ায় প্রতিবছর আয়ের একটি বড় অংশই সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, করোনাকালীন স্থবিরতার কারণে চা ব্যবসায় যে ক্ষতি হয়েছিল, সেই ধাক্কা কোম্পানিটি এখনো পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি। ঋণের এই ভারী বোঝা কমাতে এবং একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে গত দুই বছর ধরে কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সাড়া মেলেনি। অথচ এক সময়কার অত্যন্ত লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি আজ মূলত ঋণের চাপেই পঙ্গু হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে দেশের শেয়ারবাজারে গৌরবময় যাত্রা শুরু করেছিল ন্যাশনাল টি। বর্তমানে এই কোম্পানির ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সর্বশেষ কার্যদিবসেও বাজারে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ১৫৬ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা