ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২
জেনে নিন শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
ডুয়া ডেস্ক: মানবদেহে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে। এগুলো শরীরের পানি ও অ্যাসিড-ক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান, পেশির সংকোচন-প্রসারণ এবং হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তবে এদের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হয়ে গেলে শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।
ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করা বা ব্যায়ামের ফলে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বের হয়ে যেতে পারে। একইভাবে ডায়রিয়া ও বমির কারণে দ্রুত পানি ও খনিজের ঘাটতি তৈরি হয়।
এ ছাড়া কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাব কিংবা পর্যাপ্ত পানি না খাওয়াও এই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
সোডিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য ও স্নায়বিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে (হাইপোনাট্রেমিয়া) শুরুতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব ও মাথাব্যথা দেখা দেয়। পরিস্থিতি জটিল হলে বিভ্রান্তি, আচরণগত পরিবর্তন, খিঁচুনি এবং অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত পানি পান করাও সোডিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে, যা অনেক সময় উপেক্ষিত একটি কারণ।
পটাশিয়াম কোষের ভেতরে থাকা একটি অপরিহার্য ইলেকট্রোলাইট, যা পেশি ও হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রমে সহায়তা করে। এর ঘাটতি (হাইপোক্যালেমিয়া) হলে পেশিতে দুর্বলতা, ক্র্যাম্প, অবসাদ ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় হৃদ্স্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ম্যাগনেশিয়াম শরীরের বিভিন্ন এনজাইমের কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে। এর অভাব হলে পেশিতে টান, খিঁচুনি, অস্থিরতা, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এবং হৃদ্যন্ত্রের ছন্দে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। বিশেষভাবে, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণকেও জটিল করে তোলে।
ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখতে কিছু অভ্যাস মেনে চলা জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও গোটা শস্য রাখা উচিত। কলা, ডাবের পানি ও কমলা পটাশিয়ামের ভালো উৎস, আর সবুজ শাকসবজি ও বাদামে ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।
শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত বা অপ্রতুল দুই ধরনের পানিই সমস্যা তৈরি করতে পারে। ডায়রিয়া বা বমির সময় ওআরএস বা লবণ-চিনি-পানির মিশ্রণ শরীরের পানি ও খনিজ ঘাটতি পূরণে কার্যকর।
গরমে বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় অতিরিক্ত ঘামের কারণে শুধু পানি নয়, প্রয়োজন হলে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা উচিত। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করাই নিরাপদ উপায়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম ভারত ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে যা জানা গেল
- অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি: অডিটরদের ‘লাল সংকেত’
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ এপ্রিল)
- রাজধানীতে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
- গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি ফল প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ এপ্রিল)
- ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টের পেল বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ এপ্রিল)
- যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)
- ইরানের ভেতরে আটকা মার্কিন ক্রু, উদ্ধার অভিযানে তুমুল লড়াই