ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক শহীদ জিয়া’

২০২৬ মে ২৯ ১৯:৫৩:৪৩

‘গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক শহীদ জিয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বাণীতে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, অবদান ও আদর্শের কথা তুলে ধরেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। তার প্রদর্শিত পথ ও দর্শন আজও দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, জাতির সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান সবসময় দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেন। মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ও জেডফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার আহ্বানে ছাত্র, শ্রমিক, যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বাণীতে বলা হয়, স্বাধীনতার পর দেশে যখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা, নাগরিক অধিকার হরণ ও বাকস্বাধীনতা দমনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখন সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। পরে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয় বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ব্যক্তিজীবনে জিয়াউর রহমান সততা, স্বচ্ছতা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। দুর্নীতি, সুবিধাবাদ ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে তিনি সবসময় আপসহীন ছিলেন। তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ককে হারায়। তবে তিনি আজও জনগণের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছেন।

বাণীতে বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদ গুম, খুন ও নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছিল। জনগণের অধিকার হরণ করে দেশে দমন-পীড়নের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে অর্থবহ করতে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণীর শেষাংশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ, দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠা জাতীয়তাবাদী শক্তির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ৩০ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে শহীদ জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন এবং ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে তার বক্তব্য শেষ করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ