ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

বিনিয়োগের চাপ ব্যাংক থেকে শেয়ারবাজারে সরানোর মহাপরিকল্পনা

২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১০:০৩:৫৫

বিনিয়োগের চাপ ব্যাংক থেকে শেয়ারবাজারে সরানোর মহাপরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজার খাতের দীর্ঘমেয়াদী সংকট কাটাতে এবং এর আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আবারও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। মূলত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) অন্যতম উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের অর্থনীতিতে এই বাজারের গুরুত্ব গভীরভাবে অনুধাবন করেন।

বিরাজমান সমস্যাগুলো নিরসনের লক্ষে তিনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, শেয়ারবাজার নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় সিদ্ধান্ত খুব দ্রুতই আসতে যাচ্ছে। তাঁর মতে, বাজারকে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য একটি প্রকৃত ও কার্যকর প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হবে।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, এতদিন দেশের বড় বিনিয়োগগুলো প্রধানত ব্যাংকনির্ভর ছিল, যা ব্যাংকিং খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে বড় অংকের মূলধন বা ক্যাশ যেন সরাসরি শেয়ারবাজার থেকে সংগ্রহ করা যায়, সরকার সেই পরিবেশ তৈরিতে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এতে একদিকে যেমন কোম্পানিগুলো উপকৃত হবে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি এই খাতের বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে বিএসইসির শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদলের বিষয়টি বিভিন্নভাবে সামনে এসেছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্য অর্জনে বাজার পরিচালনায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।

তৎকালীন আলাপকালে তিনি আরও জানান, পুরো খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই সংস্কার এখন সময়ের দাবি। বাজার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আধুনিকায়ন করতে প্রয়োজনে প্রচলিত আইন-কানুনেও পরিবর্তন আনা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিকে আনা, সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের পথ সুগম করা এবং দেশি-বিদেশি বড় ফান্ডগুলোকে আকৃষ্ট করা।

পরবর্তীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিএসইসিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন সরকার আসার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আসা একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। চলতি অর্থবছর ও এর পরবর্তী সময়ে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন দেখা যাবে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত