ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘নতুন ধরন, নতুন ধারণা’ স্লোগানে আত্মপ্রকাশ করল দৈনিক আগামীর সময়

পার্থ হক
পার্থ হক

রিপোর্টার

২০২৬ মে ১৯ ২২:১৯:৩০

‘নতুন ধরন, নতুন ধারণা’ স্লোগানে আত্মপ্রকাশ করল দৈনিক আগামীর সময়

পার্থ হক: ‘নতুন ধরন, নতুন ধারণা’ এবং ‘সাথে থাকলে হাতেই সব’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠকের হাতে পৌঁছাবে নতুন জাতীয় দৈনিক ‘আগামীর সময়’। এই নতুন যাত্রাকে সামনে রেখে আজ রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে এক বর্ণাঢ্য সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঝলমলে এই সন্ধ্যায় রাজনীতি, প্রশাসন, ব্যবসা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নতুন এই সংবাদপত্রের লোগো উন্মোচন করা হয়।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, ‘আমরা কেবল একটি সংখ্যা বাড়াতে আসিনি, বরং গ্রহণযোগ্য সাংবাদিকতার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশকে আরও সুন্দর করে তুলে ধরতে চাই। এই কাগজে সাধারণ মানুষের কথা থাকবে, থাকবে সামাজিক বীরদের গল্প। বিশেষ করে প্রবীণ প্রজন্মকে আমরা এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক আবদুস সাত্তার মিয়াজী। আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা আমাদের অভিভূত করেছে। আপনাদের পরামর্শ ও প্রেরণা আগামীর সময়কে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। জুনের মধ্যে এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। সেই কাঠামোতে ‘আগামীর সময়’ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা চাই আগামীর সময় যেন সময়ের চাহিদা ও জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে। গণমাধ্যম যেন কোনো বিশেষ দলকেন্দ্রিক না হয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এই ডিজিটাল যুগে প্রিন্ট পত্রিকা বের করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পত্রিকাটি যদি বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে পারে, তবে তা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণমাধ্যম সভ্য সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার। আগামীর সময় যেন সেই নীতি মেনে চলে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, এবং মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সত্য বলা বর্তমানে বেশ কঠিন। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে আগামীর সময়ের আত্মপ্রকাশ এক সাহসী সিদ্ধান্ত।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশ গঠনে পত্রিকাটির ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালকে এই সাহসী উদ্যোগে বিনিয়োগ করার জন্য ধন্যবাদ জানান সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ১০৮ এতিম কন্যার অভিভাবকত্ব নেওয়া রুবেলকে সম্মাননা প্রদান করেন সম্পাদক মোস্তফা মামুন। এছাড়া আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মোস্তফা পত্রিকার ইশতেহার পাঠ করেন এবং সাদিয়া ইসলাম মৌ-এর পরিচালনায় এক মনোজ্ঞ নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিব রশিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি নূরুল কবীরসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এই সুধী সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত