ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশে থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ২০ শতাংশ মানুষ

২০২৬ মে ১৯ ১৯:১৪:৪৮

দেশে থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ২০ শতাংশ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে থাইরয়েডজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ এখনো কোনো চিকিৎসা সেবার আওতায় আসেননি। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগলেও বড় একটি অংশ জানেন না যে তারা থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে নারীদের হার বেশি; প্রতি ৭ জন রোগীর মধ্যে ৫ জনই নারী।

আগামী ২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ও আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নিনমাসে একটি গোলটেবিল আলোচনা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।

বক্তারা বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি ছোট হলেও মানবদেহে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে দেরি হলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে।

অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী জানান, থাইরয়েড হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থির সমস্যায় হাইপোথাইরয়েডিজম, হাইপারথাইরয়েডিজম, গলগণ্ড ও থাইরয়েড ক্যানসারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও জানান, বংশগত কারণে ঝুঁকি বেশি থাকে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস থাকলে সন্তানদের মধ্যে রোগ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে প্রতি ২ হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে ১ জন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। পাশাপাশি প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ সাব-ক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত, যাদের অনেকেই বিষয়টি জানেন না।

বিশেষজ্ঞরা মানবজীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে থাইরয়েড পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন— জন্মের পরপরই, বয়ঃসন্ধিকালে, গর্ভধারণের আগে এবং ৫০ বছর বয়সের পর।

সেমিনারে থাইরয়েড চিকিৎসায় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মতো আধুনিক পদ্ধতির কথা তুলে ধরা হয়, যেখানে অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুইয়ের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা সম্ভব। এতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার থাইরয়েড সচেতনতাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ করার আহ্বান জানান। এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চিত করতে দ্রুত শনাক্তকরণ ও আধুনিক চিকিৎসা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা নবজাতকদের জন্মের পরপরই থাইরয়েড পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে থাইরয়েড ক্যানসার প্রায় শতভাগ নিরাময়যোগ্য বলে উল্লেখ করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত