ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএটির মুনাফায় ধস: ৪৭ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ডিভিডেন্ড ঘোষণা

২০২৬ মার্চ ০৩ ১৮:৫৪:১৬

বিএটির মুনাফায় ধস: ৪৭ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ডিভিডেন্ড ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা কারখানার কার্যক্রম বন্ধের ব্যয়, উচ্চ আবগারি শুল্ক এবং বিক্রয় হ্রাসের প্রলেপে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশ কমে ৫.৮৪ বিলিয়ন বা ৫৮৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের সর্বনিম্ন বার্ষিক মুনাফা।

২ মার্চ, সোমবার প্রকাশিত কোম্পানিটির মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

মুনাফার এই নাটকীয় পতনের ফলে বিএটি বাংলাদেশের শেয়ার প্রতি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সায় যেখানে গত বছর আয় ছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা। আয়ের এই করুণ দশার পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের জন্য মাত্র ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদানের সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা প্রতি শেয়ারের বিপরীতে মাত্র ৩ টাকা ডিভিডেন্ড পাবেন।

১৯৭৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটিই কোম্পানিটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন ডিভিডেন্ড প্রদানের রেকর্ড। উল্লেখ্য যে, এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৩০০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর— এই শেষ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ১.৩৭ বিলিয়ন টাকা নিট লোকসান গুনেছে, যা মূলত পুরো বছরের মুনাফায় বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গবেষকদের মতে, ঢাকার বনানী কারখানার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের এককালীন ‘এক্সিট কস্ট’ দিতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ভূমির ইজারা চুক্তি সম্প্রসারণ না হওয়ায় কোম্পানিটি ঢাকার কার্যক্রম বন্ধ করে আশুলিয়ায় সরিয়ে নেয়। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের ২.১২ বিলিয়ন টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া সাভার কারখানার সক্ষমতা বাড়াতে কোম্পানিটি গত বছর আরও ২.৯৭ বিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ ও কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি কোম্পানিটিকে উচ্চ হারে আবগারি শুল্ক পরিশোধ করতে হয়েছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি পণ্যের দাম সেভাবে বাড়াতে পারেনি। ফলে তাদের বিক্রয় ও মুনাফায় এই ধস নেমেছে।

গত বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী ৩০ এপ্রিল তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম অনুষ্ঠিত হবে এবং ডিভিডেন্ড পাওয়ার জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল।

বর্তমানে বিএটি বাংলাদেশ বেনসন অ্যান্ড হেজেস, জন প্লেয়ার গোল্ড লিফ, ক্যাপস্টান, স্টার ও ডার্বিসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সিগারেট বিপণন করছে। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ০.৪৫ শতাংশ বেড়ে ২৬৬ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন শেষ হলেও, মুনাফা ও ডিভিডেন্ডের এই হতাশাজনক খবরটি এসেছে বাজার বন্ধ হওয়ার পরে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত