ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুদ আয় কমলেও মুনাফায় বিস্ময়কর উত্থান সিটি ব্যাংকের

২০২৬ জুন ০১ ২৩:৩৫:২০

সুদ আয় কমলেও মুনাফায় বিস্ময়কর উত্থান সিটি ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিট সুদজনিত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় চমক দেখিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক। সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকটির নিট মুনাফা এক বছরে ১৬২ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যাংকটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে সিটি ব্যাংকের নিট মুনাফা হয়েছে ২৪০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হিসেবে ১ টাকা ৫৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৯২ কোটি ৮ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ৬১ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ১৪৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

মুনাফার এ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, মূল ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগ আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মোট অপারেটিং আয়ের প্রায় ৩২ শতাংশ এসেছে বিনিয়োগ খাত থেকে। বিশেষ করে উচ্চ মুনাফার সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুফল হিসেবে এই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক অবস্থান, সম্পদের গুণগত মানের উন্নয়ন, প্রভিশন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেও পরিচালন ব্যয় দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনার ফলে কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪৪ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এসব বিষয়ও মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে ব্যাংকটির নিট সুদজনিত আয় কমেছে। যদিও ঋণ থেকে সুদ আয় বেড়েছে, কিন্তু আমানতের বিপরীতে সুদ ব্যয় আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিট সুদ আয় সংকুচিত হয়েছে।

২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে সিটি ব্যাংকের নিট সুদজনিত আয় ছিল ১৫৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ৭৬ লাখ টাকায়।

অন্যদিকে বিনিয়োগ আয় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখিয়েছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাত থেকে আয় ছিল ৬০৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা এ বছর বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। একই সময়ে কমিশন আয় ১৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। তবে অপরিচালন আয় ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমে ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।

ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে পরিচালন ব্যয় ছিল ৫০৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ২০২৬ সালের একই সময়ে বেড়ে ৫৯৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৮৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা প্রায় ১৮ শতাংশ।

পরিচালন ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা। এ খাতে ব্যয় ২৯৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪৫ কোটি ৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫২১ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংরক্ষিত মুনাফা বা রিটেইনড আর্নিংস রয়েছে ২ হাজার ৫৮৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সিটি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৭০১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ রয়েছে ২২ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ রয়েছে ১ হাজার ৯৫৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

একই সময়ে ব্যাংকটিতে গ্রাহকদের কারেন্ট ডিপোজিট ছিল ১৬ হাজার ৩২৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেভিংস ডিপোজিটের পরিমাণ ১২ হাজার ৫৭৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত