ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

হরমুজ প্রণালী অচল, বিশ্ব বাণিজ্যে গভীর সংকট

২০২৬ মার্চ ০২ ২০:০০:১৭

হরমুজ প্রণালী অচল, বিশ্ব বাণিজ্যে গভীর সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এবার বৈশ্বিক অর্থনীতির হৃদপিণ্ডে আঘাত হানছে। ইরান ও ইসরায়েল-এর পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে শুধু জ্বালানি নয়, সার, প্লাস্টিক ও খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে।

বিশ্বের মোট সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ—বিশেষ করে সালফার ও অ্যামোনিয়া—এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব সার ভারত, চীন, ব্রাজিল ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। নৌপথ বন্ধ থাকায় এসব দেশের কৃষি খাত সরাসরি ঝুঁকিতে পড়েছে।

বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, উপসাগরীয় এই পথের কার্যকর বিকল্প নেই। স্থলপথে পাইপলাইন বা ট্রাকের মাধ্যমে এত বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া সারের মূল কাঁচামাল গ্যাস ও তেল হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়লে সারের দামও দ্রুত বাড়বে, যা বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে প্লাস্টিক শিল্পেও। বিশ্ববাজারে ব্যবহৃত পলিথিনের উল্লেখযোগ্য অংশ উৎপাদিত হয় আমিরাতে। দেশটির জেবেল আলি বন্দরে অগ্নিকাণ্ড এবং কুয়েতের বন্দরে সাময়িক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্গাস মিডিয়া আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক প্লাস্টিক পণ্যের বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

নিরাপত্তা উদ্বেগে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখন হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলছে। বিমা প্রিমিয়াম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় এই পথে জাহাজ চালানো ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ডেনমার্কভিত্তিক মার্সক এবং ফ্রান্সের সিএমএ সিজিএম হরমুজের পাশাপাশি সুয়েজ খাল ব্যবহারও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফলে এশিয়া-ইউরোপ রুটে জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ দুটোই বাড়াচ্ছে।

সবশেষে, এই সংকট মধ্যপ্রাচ্যের খাদ্যনিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। অঞ্চলটির বহু দেশ খাদ্য আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। অতীতে সামরিক উত্তেজনার সময় ভারত থেকে আসা চালের চালান মাঝপথে আটকে পড়ার নজির রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে খাদ্য সরবরাহে তীব্র ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত