ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ: আইল্যান্ড সিকিউরিটিজকে অর্থ ফেরতের নির্দেশ 

২০২৬ মে ২৬ ১৬:৫২:০১

গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ: আইল্যান্ড সিকিউরিটিজকে অর্থ ফেরতের নির্দেশ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই টাকা তুলে জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার অভিযোগে ব্রোকারেজ হাউস আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ওই ব্রোকারেজ হাউসকে গ্রাহকের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।

বিএসইসি’র এনফোর্সমেন্ট বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মো. গোলাম রহমান নামের এক বিনিয়োগকারী গত ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি জানান, ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল তাঁর সম্মতি ছাড়াই বিও অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা মূলত সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ার কেনার জন্য তিনি জমা রেখেছিলেন। দীর্ঘ বছর ধরে মৌখিক ও লিখিতভাবে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও ব্রোকারেজ হাউসটি কোনো সমাধান দেয়নি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে তিনি আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি।

অবশ্য আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, গ্রাহকের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনা হয়েছিল। তারা আরও উল্লেখ করে, ২০১০ সালের দিকে বাজারে জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ারের ব্যাপক চাহিদা ছিল এবং অন্যান্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো এই অভিযোগকারীও তা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।

তবে বিএসইসি’র তদন্তে দেখা গেছে, অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের বিপরীতে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ কোনো ধরনের লিখিত অনুমতিপত্র, রিকুইজিশন স্লিপ বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি গত ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট ডিএসইতে অনুষ্ঠিত একটি ত্রিপক্ষীয় সভায় ব্রোকারেজ হাউসটি নিজেই স্বীকার করেছে যে গ্রাহকের কোনো লিখিত অনুমতি তাদের কাছে ছিল না।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ সময়মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। গ্রাহকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব, সঠিক নথিপত্র সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য প্রদানের বিষয়গুলোও তদন্তে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৮ সহ স্টক-ডিলার ও স্টক-ব্রোকার সংক্রান্ত একাধিক বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে।

এসব গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে গত ১২ মে বিএসইসি এক আদেশে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মো. গোলাম রহমানের ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া না হলে কমিশনকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে, অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক

সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও পুরোপুরি বন্ধ থাকছে না দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ... বিস্তারিত