ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ: আইল্যান্ড সিকিউরিটিজকে অর্থ ফেরতের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই টাকা তুলে জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার অভিযোগে ব্রোকারেজ হাউস আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ওই ব্রোকারেজ হাউসকে গ্রাহকের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।
বিএসইসি’র এনফোর্সমেন্ট বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মো. গোলাম রহমান নামের এক বিনিয়োগকারী গত ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি জানান, ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল তাঁর সম্মতি ছাড়াই বিও অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা মূলত সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ার কেনার জন্য তিনি জমা রেখেছিলেন। দীর্ঘ বছর ধরে মৌখিক ও লিখিতভাবে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও ব্রোকারেজ হাউসটি কোনো সমাধান দেয়নি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে তিনি আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি।
অবশ্য আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, গ্রাহকের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনা হয়েছিল। তারা আরও উল্লেখ করে, ২০১০ সালের দিকে বাজারে জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ারের ব্যাপক চাহিদা ছিল এবং অন্যান্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো এই অভিযোগকারীও তা কেনার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
তবে বিএসইসি’র তদন্তে দেখা গেছে, অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের বিপরীতে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ কোনো ধরনের লিখিত অনুমতিপত্র, রিকুইজিশন স্লিপ বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি গত ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট ডিএসইতে অনুষ্ঠিত একটি ত্রিপক্ষীয় সভায় ব্রোকারেজ হাউসটি নিজেই স্বীকার করেছে যে গ্রাহকের কোনো লিখিত অনুমতি তাদের কাছে ছিল না।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ সময়মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। গ্রাহকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব, সঠিক নথিপত্র সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য প্রদানের বিষয়গুলোও তদন্তে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৮ সহ স্টক-ডিলার ও স্টক-ব্রোকার সংক্রান্ত একাধিক বিধিমালা লঙ্ঘন করেছে।
এসব গুরুতর লঙ্ঘনের দায়ে গত ১২ মে বিএসইসি এক আদেশে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মো. গোলাম রহমানের ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া না হলে কমিশনকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে, অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ছাদখোলা গাড়িতে লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গাড়িটি কার?