ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

খামেনি হ'ত্যার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ

২০২৬ মার্চ ০১ ১৯:৪৭:০৩

খামেনি হ'ত্যার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছাতেই ভারতের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শোক ও উত্তেজনার এক অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটেছে। জম্মু-কাশ্মীরের পাহাড়ঘেরা উপত্যকা থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের সমতল সবখানেই আজ শোকাতুর মানুষের ঢল নেমেছে রাজপথে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনির নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শ্রীনগরের ঐতিহাসিক লালচকসহ বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।

বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শ্রীনগরের লালচক এলাকা। সেখানে বিশাল জনতা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে শোকমিছিলে অংশ নেয়। মিছিলে অংশ নেওয়া শিয়া সম্প্রদায়ের নারীদের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কাশ্মীরের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ লেগেছে রাজনৈতিক মহলেও। জম্মু-কাশ্মীরের বিশিষ্ট আলেম মীরওয়াইজ উমর ফারুক এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এই হত্যাকাণ্ডের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন এবং উপত্যকাবাসীকে শোক পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রীনগরের সাইদা কাদাল ও বুদগামের মতো এলাকাগুলোতে বর্তমানে স্বতঃস্ফূর্ত বনধ বা ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে ৪০ বছর বয়সী সৈয়দ তৌফিক এএফপিকে নিজের ভারাক্রান্ত হৃদয়ের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আজ আমাদের সবার হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমরা আমাদের প্রিয় নেতাকে হারানোর শোক পালন করছি।’ তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের জন্য আমাদের সবার একটি বার্তা আছে। আমরা সব সময় আপনার নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। আপনি যদি মনে করেন আমাদের প্রিয় নেতাকে শহীদ করে আপনি সফল হয়েছেন, তবে আপনি ভ্রান্তিতে আছেন।’

এদিকে কাশ্মীরের গণ্ডি পেরিয়ে বিক্ষোভের উত্তাপ পৌঁছেছে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতেও। সেখানকার ঐতিহাসিক ইমামবাড়া সংলগ্ন এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তায় নেমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে এবং হামলাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। শোকাতুর নারীদের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশও শোকাবহ হয়ে ওঠে। আলজাজিরা জানিয়েছে, ভারতের আরও বেশ কিছু শিয়া প্রধান এলাকায় এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে।

বর্তমানে শ্রীনগর, বুদগাম এবং লখনউয়ের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। উপত্যকার পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে থাকলেও সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে প্রিয় নেতাকে হারানোর শোক ও ক্ষোভের ছাপ স্পষ্ট।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত