ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানে স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮

২০২৬ মার্চ ০১ ১২:২৭:৫৭

ইরানে স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গন এবার এক করুণ ও রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডির সাক্ষী হলো। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ১০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের এই সময়ে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে স্কুলের আঙিনা, যা পুরো বিশ্বে শোক ও নিন্দার ঝড় তুলেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই বর্বরোচিত আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘বর্বোরোচিত কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত স্কুলটি ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) একটি সামরিক ঘাঁটির অত্যন্ত সন্নিকটে অবস্থিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ঘাঁটিটিই ছিল হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে স্কুলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যদিও এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, এটি ‘আগ্রাসকদের দ্বারা সংঘটিত অসংখ্য অপরাধের ধারাবাহিকতায় আরেকটি কালো অধ্যায়’। তিনি বিশ্ববাসীর কাছে এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন। বর্তমানে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও অনেকের লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছে, কেবল ওই স্কুল নয়, বরং সারাদেশে চালানো এই দফার হামলায় এখন পর্যন্ত ২০১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৭৪৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। জেনেভায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁরা ইতিমধ্যে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ ‘রেসপন্স টিম’ পাঠিয়েছে। হাসপাতালের বেডগুলোতে এখন কেবলই আর্তনাদ আর স্বজনহারাদের কান্নার রোল শোনা যাচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত