ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নতুন সরকারের কাছে শাকিব খানের একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব
বিনোদন ডেস্ক: নতুন বাংলাদেশের নবযাত্রায় দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান। তিনি মনে করেন, কেবল নামমাত্র উদ্যোগ নয় বরং আমূল প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই চলচ্চিত্রের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সম্প্রতি নবনির্বাচিত সরকারের কাছে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নিরপেক্ষতা এবং আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
পুরস্কারের স্বচ্ছতা নিয়ে শাকিব খান জোর দিয়ে বলেন, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বারবার সামনে আসে এসব প্রশ্ন। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হোক। মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাইরের হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।’ পাশাপাশি সরকারি অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়াতেও আমূল পরিবর্তনের ডাক দেন তিনি। তাঁর মতে, ‘সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতের অভিযোগ দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি, অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি এবং পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে প্রকৃত মেধাবীরা উৎসাহ পাবেন।’
সারা দেশে জরাজীর্ণ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই শীর্ষ নায়ক। হলসংখ্যা বাড়ানো ও আধুনিকায়নের পথ বাতলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। মাঝখানে কয়েকবার প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাই বলব, সারা দেশে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষ পরিবার নিয়ে আবার ছবি দেখছে, তাদের শুধু সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে। সারা দেশে যেসব বন্ধ ও জরাজীর্ণ প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে, সেগুলোর সংস্কারে স্বল্প সুদে ঋণ, করছাড় ও পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনেও উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। যেসব জেলায় প্রেক্ষাগৃহ নেই, সেখানে কম আসনসংখ্যার ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ বানানো যেতে পারে। এতে নির্মাণ ব্যয় কমবে, স্থানীয় উদ্যোক্তারাও যুক্ত হতে পারবেন।’
চলচ্চিত্র শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কর রেয়াত ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের ওপর জোর দেন শাকিব খান। তাঁর প্রস্তাব হলো, ‘নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে ভ্যাট ও ট্যাক্সছাড়, জমি লিজে বিশেষ সুবিধা, আমদানি করা প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রে শুল্ক কমানো এসব প্রণোদনা দিলে বিনিয়োগ বাড়বে। ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সাউন্ড, অনলাইন টিকেটিং এসব বাধ্যতামূলক বা প্রণোদিত করলে দর্শকের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং হলমুখী দর্শক বাড়বে।’
সবশেষে শাকিব খান দেশীয় সিনেমার সুরক্ষা ও প্রদর্শনী নিশ্চিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপের কথা বলেন। তিনি যোগ করেন, ‘দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা, উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী এবং পরিবারবান্ধব কনটেন্টে সহায়তা এসব দর্শক টানতে সাহায্য করবে। প্রেক্ষাগৃহকে শুধু সিনেমা নয়, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে বিভিন্ন উপলক্ষে চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনও করা যেতে পারে।’ মূলত সুন্দর পরিবেশ ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটলেই ঢালিউড আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে মেগাস্টার শাকিব খান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষকদের পদযাত্রা
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- ঢাবিতে মাদারীপুর সদর ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা
- শোলাকিয়া থেকে জাতীয় ঈদগাহ কোথায় কখন ঈদের জামাত, জেনে নিন বিস্তারিত
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিলেন ববি হাজ্জাজ
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির