ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৪:৩২:০৯

প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই

বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের লোকসংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রখ্যাত বাউলশিল্পী ও সংগীতগুরু সুনীল কর্মকার আর নেই। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে স্ত্রী, দুই ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী শোকাহত হয়েছেন। লোকসংগীতপ্রেমীদের কাছে তিনি ছিলেন আবেগ, সাধনা আর নিবেদন এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। শৈশবেই তার জীবনে নেমে আসে কঠিন বাস্তবতা। মাত্র সাত বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে দৃষ্টিহীনতা তাকে থামাতে পারেনি বরং সেই বয়স থেকেই সংগীতই হয়ে ওঠে তার জীবনসঙ্গী।

তার বাবা দীনেশ কর্মকার তাকে বাউলগায়ক ইসরাইল মিয়ার কাছে নিয়ে গেলে সেখানেই শুরু হয় সংগীতে প্রাতিষ্ঠানিক হাতেখড়ি। গানের তালিমের পাশাপাশি ওস্তাদের কাছে দোতারা বাজানোয় দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামে পারদর্শিতা অর্জন করে পূর্ণাঙ্গ পেশাদার শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

ভরাট, আবেগঘন কণ্ঠ আর সাধনাময় পরিবেশনায় সুনীল কর্মকার একাই যেকোনো আসর মাতিয়ে তুলতে পারতেন। গানের পাশাপাশি একাধিক বাদ্যযন্ত্রে তার দক্ষতা তাকে লোকসংগীতাঙ্গনে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যায়। বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই সংগীতের পথে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেন তিনি।

ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর বহু গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন সুনীল কর্মকার। এসব গানের অনেকগুলোই জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করে। টেলিভিশন চ্যানেল, যাত্রামঞ্চ এবং চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন পেশাদার শিল্পী হিসেবে সুনামের সঙ্গে গান গেয়েছেন তিনি।

লোকসংগীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দৃষ্টিহীন এই শিল্পী ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে সম্মানজনক শিল্পকলা পদকে ভূষিত হন। তার প্রয়াণে দেশের লোকসংগীত অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত