ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

শেয়ারবাজারের ৭ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চমক

২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ২৩:১৪:১১

শেয়ারবাজারের ৭ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানি যখন লোকসানের চাপে জর্জরিত, তখন সরকারি মালিকানাধীন সাতটি প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) এসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই মুনাফার অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪৭.৫৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

এই সাত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ২৩৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়। আয় বাড়া ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আসায় টানা তিন বছর লোকসানের পর বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী এই কোম্পানি আবারও লাভের ধারায় ফিরেছে, যদিও বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে মুদ্রার বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

জ্বালানি খাতের তিন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম মুনাফা বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হলেও যমুনা অয়েল পিছিয়ে পড়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত হওয়া চারটি ব্যাংকে থাকা আমানতের ওপর সুদ যুক্ত না হওয়ায় যমুনা অয়েলের মুনাফা কমেছে ১৮ শতাংশ।

এদিকে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে থাকা বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ৫৯ শতাংশ বেড়ে ১৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। আইপিএলসি ব্যান্ডউইথ ও আইপি ট্রানজিট সেবার চাহিদা বাড়াই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী ডেসকো গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার ৯০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে তিতাস গ্যাস এখনো লোকসানে থাকলেও ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগের বছর যেখানে লোকসান ছিল ৭১১ কোটি টাকা, সেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে তা নেমে এসেছে ৩৯০ কোটি ৩২ লাখ টাকায়।

তবে সব রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের চিত্র একই রকম নয়। সরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইসিবি শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ও উচ্চ সুদের হারের প্রভাবে ৩১১ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত দুই চিনি কল—জিল বাংলা ও শ্যামপুর সুগার মিলসের লোকসান আরও বেড়েছে। এক সময় লাভজনক হিসেবে পরিচিত ইস্টার্ন কেবলস ও ন্যাশনাল টিউবসও চলতি অর্থবছরে লোকসানের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত