ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ঋণ খেলাপিতে এসএস স্টিলের চেয়ারম্যানের বাড়ি ব্যাংকের দখলে
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকিং খাতে বিরল এক পদক্ষেপের মাধ্যমে Eastern Bank PLC খেলাপি ঋণ আদায়ে সরাসরি সম্পত্তি দখলে নিয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এসএস স্টিল লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান জাভেদ ওপেনহেফেনের বনানীর বাসভবনটি ১১২ কোটি ৪১ লাখ টাকার ঋণ পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পত্তিটি এখন ব্যাংকের আইনি অধিকারভুক্ত।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত সোমবার (১৬ মার্চ), যখন জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ক্রোক করা সম্পত্তির ছবি যুক্ত করে সাধারণ মানুষকে এই বাড়ি কেনা বা এর সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
জানা গেছে, ঢাকা মানি লোন কোর্টে মামলা দায়েরের পর আদালত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আদালত ওই সম্পত্তিতে ব্যাংকের দাবি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানোর নির্দেশও দিয়েছিল, যা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যাংক আইনি পথ অনুসরণ করে। এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ঋণগ্রহীতার অনাগ্রহের কারণে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি এড়াতে জনসচেতনতার অংশ হিসেবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ব্যাংকটি ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা বিভিন্ন সম্পদ নিলামে তোলার উদ্যোগ নেয়। এসব সম্পদের মধ্যে ছিল কারখানার যন্ত্রপাতি, বনানীর চারতলা ভবনসহ ৫ কাঠা জমি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় ব্যাংক শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি ক্রোকের পথে হাঁটে।
এদিকে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা বর্তমানে বেশ চাপে রয়েছে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (২৯০ কোটি টাকা) এবং ব্যাংক এশিয়া (১৬৮ কোটি টাকা) সহ একাধিক ব্যাংকও তাদের খেলাপি ঋণ আদায়ে নিলামের উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি। কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১১৩ শতাংশ বেশি।
তারল্য সংকটের প্রভাব পড়েছে শেয়ারহোল্ডারদের ওপরও। ২০২৪ অর্থবছরের জন্য ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড অনুমোদন করা হলেও তা যথাসময়ে বিতরণ করা হয়নি। এ কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে। পাশাপাশি ২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমাও অতিক্রম করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট দেনা শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির তুলনায় প্রায় ২৫১ শতাংশ বেশি। যদিও এ পরিস্থিতির মধ্যেও গত অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি, তবুও খেলাপি ঋণের দায়ে চেয়ারম্যানের বাসভবন ক্রোক হওয়ার ঘটনাটি এখন শেয়ারবাজারে অন্যতম আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ আগস্ট) r
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ
- স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দাবি
- রোববার ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন, প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমান
- মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ
- তেজগাঁও কলেজে মঞ্চে উঠছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’
- বাংলাদেশ স্কাউটসে নবম গ্রেডে চাকরির সুযোগ
- ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার তারিখ জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- বোর্ড সচিব বাবা, টেনেটুনে পাস করা ছেলের ফল জিপিএ-৫
- টাকার বিনিময়ে ১২০০ শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন
- বাসায় ঢুকে মডেলকে কুপিয়ে হ'ত্যা