ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আফতাব অটো ও জেনেক্স ইনফোসিসের কর্তাদের ১.৪৩ কোটি টাকা জরিমানা

২০২৬ মে ২২ ২৩:২১:০৮

আফতাব অটো ও জেনেক্স ইনফোসিসের কর্তাদের ১.৪৩ কোটি টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিতরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড এবং জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসির পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত কমিশনের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই কঠোর এনফোর্সমেন্ট বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি ৩০ জুন ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও আইনি বাধ্যবাধকতার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেয়ারহোল্ডারদের পরিশোধ করেনি। এই নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ওই অর্থবছরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানির ৮ জন কর্মকর্তাকে জনপ্রতি ১ লাখ টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কয়েকজন পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং কোম্পানি সচিব।

একই ধরনের অপরাধে আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর আরও বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কোম্পানিটি আলোচ্য অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল, যার মোট পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কোম্পানিটি ৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা বিতরণ করলেও বাকি ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ না করে নিজেদের কাছে রেখে দেয়। বিএসইসি কোম্পানিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই বকেয়া ডিভিডেন্ড পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ডিভিডেন্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত জরিমানা কার্যকর হবে।

কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, এই খেলাপি ডিভিডেন্ডের জন্য আফতাব অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পৃথকভাবে ৩০ লাখ টাকা করে এবং তিন পরিচালককে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাকে ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সচিবকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই জরিমানার টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হবে; কোনোভাবেই কোম্পানির ফান্ড বা অর্থ ব্যবহার করে এই জরিমানা মেটানো যাবে না। এর পাশাপাশি জরিমানা পরিশোধে বিলম্ব হলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে সংশ্লিষ্টদের। বিএসইসি আরও স্পষ্ট করেছে যে, জরিমানা পরিশোধ করলেই কোম্পানিগুলো তাদের ডিভিডেন্ড বিতরণের দায় থেকে মুক্তি পাবে না; বকেয়া ডিভিডেন্ড অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের বুঝিয়ে দিতে হবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত