ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ক্ষমতা বদলের দিনেই রিজার্ভ ছাড়াল সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ ২১:৪৪:৩৪

ক্ষমতা বদলের দিনেই রিজার্ভ ছাড়াল সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতার পালাবদলের দিনে দেশের অর্থনীতিতেও মিলেছে স্বস্তির খবর। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিনেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাড়ে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় রিজার্ভ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও আর্থিক ভিত্তি শক্ত থাকার বার্তা দিয়েছে এ তথ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব হয়েছে ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ার কারণেই রিজার্ভে এই উন্নতি দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকা এবং রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকাও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি ডলার, যা ডলার সংকট কমাতে ভূমিকা রেখেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনেও রেমিট্যান্স প্রবাহ জোরালো রয়েছে—এই সময়ে এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকিং খাতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে গেছে। ফলে ডলারের দর কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৯০ কোটি ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ৩৪ বিলিয়নের বেশি রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। নতুন সরকারের জন্য এটি একটি আশাব্যঞ্জক সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ডলার বাজার অস্থির হয়ে প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত তিন অর্থবছরে মোট প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়—২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ এ ১৩.৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩-২৪ এ ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ফলে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্টো ব্যাংকগুলোর কাছ থেকেই ডলার কিনছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক পিএলসি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ‘ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’... বিস্তারিত