ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
রাতের খাবারের সঙ্গে যেসব পানীয় এড়িয়ে চলবেন
ডুয়া ডেস্ক: রাতের খাবারের সময় কী খাওয়া হচ্ছে, তার পাশাপাশি কী পান করা হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পানীয় হজমে সমস্যা, অ্যাসিডিটি, ঘুমের ব্যাঘাত এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে রাতের খাবারের সঙ্গে সঠিক পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাতের দিকে মানবদেহ ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। এ সময় অতিরিক্ত চিনি, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল বা গ্যাসযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে ঘুমে সমস্যা, বদহজম এবং পরদিন ক্লান্তি অনুভূত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবারের সময় বা পরে যেসব পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
মিষ্টি কোমল পানীয়: অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরিযুক্ত কোমল পানীয় রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি কার্বোনেশনের কারণে পেট ফাঁপা ও অস্বস্তিও তৈরি হতে পারে।
এনার্জি ড্রিংকস: এ ধরনের পানীয়তে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন ও চিনি থাকে। ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কফি: রাতের খাবারের পর কফি পান করলে ক্যাফেইনের প্রভাবে দীর্ঘ সময় ঘুমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ভারী খাবারের পর এটি পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণও বাড়িয়ে দিতে পারে।
লাল চা ও গ্রিন টি: ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টি-তেও ক্যাফেইন থাকায় ঘুমের আগে এগুলো পান করলে গভীর ঘুমে প্রভাব পড়তে পারে। প্রয়োজনে ক্যাফেইনমুক্ত হার্বাল টি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অ্যালকোহল: অ্যালকোহল সাময়িকভাবে ঘুমঘুম ভাব আনলেও এটি রাতের শেষভাগের ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে। পাশাপাশি পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া ও স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যাও বাড়াতে পারে।
প্যাকেটজাত ফলের রস: বাজারজাত ফলের জুসে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি থাকে, কিন্তু ফাইবারের পরিমাণ কম। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই জুসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়াই বেশি উপকারী।
মিল্কশেক ও ডেজার্ট ড্রিংকস: চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকায় এসব পানীয় হজম ধীর করে, অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ করে এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
গ্যাসযুক্ত বা সোডাজাতীয় পানীয়: এসব পানীয় পেটে গ্যাস, ঢেকুর, অস্বস্তি এবং বুক জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে।
বিকল্প হিসেবে কী পান করবেন?
বিশেষজ্ঞরা রাতের খাবারের সঙ্গে সাধারণ পানি, হালকা গরম পানি, চিনি ছাড়া হার্বাল টি, হালকা গরম দুধ, পরিমিত পরিমাণে ঘোল বা বাটারমিল্ক এবং চিনি ছাড়া লেবুপানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো শরীরকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি হজমেও সহায়তা করে।
ভালো হজমের জন্য আরও কিছু পরামর্শ
ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা, অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, মশলাযুক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস উপকারী হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলেও হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।
সুস্থ হজম ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য রাতের খাবারের পাশাপাশি পানীয় নির্বাচনেও সচেতন থাকা জরুরি। সঠিক পানীয় বেছে নেওয়া দৈনন্দিন সুস্থ জীবনযাপারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- এইচএসসি উত্তীর্ণদের বৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, জানুন বিস্তারিত
- মাসে ৩৫শ রিঙ্গিত বৃত্তিতে মালায়ায় পিএইচডির সুযোগ
- ওয়ালটনে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার পদে নিয়োগ
- একাদশে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে