ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জোড়াতালি নয়, মজবুত ভিত্তি নিয়ে আসছে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ

২০২৬ মে ১০ ১৬:৪০:২৪

জোড়াতালি নয়, মজবুত ভিত্তি নিয়ে আসছে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করতে কোনো সাময়িক বা অসম্পূর্ণ ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করতে একটি সুপরিকল্পিত ও শক্তিশালী ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

রবিবার (১০ মে) সকালে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার ফারজানা লালারুখ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান কমিশন কোনো জোড়াতালি দিয়ে বাজার টিকিয়ে রাখায় বিশ্বাসী নয়; বরং প্রতিটি স্তম্ভকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে তবেই এই নতুন বাজার উন্মুক্ত করা হবে।

সিএমজেএফ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় কমিশনার বলেন, দেশের শেয়ারবাজার বর্তমানে তিনটি প্রধান স্তম্ভ— ইকুইটি, বন্ড এবং কমোডিটির ওপর দাঁড়িয়ে। ইকুইটি মার্কেট এক জায়গায় স্থবির হয়ে থাকলেও বন্ড মার্কেট কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে কমোডিটি মার্কেটের যে শূন্যতা রয়েছে, তা পূরণে কাজ করছে কমিশন। ইতিমধেই ২০২৫ সালে সিএসইর কমোডিটি ডেরিভেটিভ প্রবিধানমালা অনুমোদিত হয়েছে এবং যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল সিএসইর কারিগরি সক্ষমতা অর্জন ও সঠিক পণ্য নির্বাচনের অপেক্ষা করছে কমিশন।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, এই বাজারের দুটি প্রধান দিক হলো পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (হেজিং)। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের মতো পরিস্থিতি যাতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জে না হয়, সেজন্য কমিশন অত্যন্ত সতর্ক। ফারজানা লালারুখ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া কোনো কিছু চালু করলে পরবর্তীতে সমস্যা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই প্রশ্ন তুলবেন। তাই সময় নিয়ে সব নিয়ম-নীতি ও স্টেকহোল্ডারদের প্রস্তুতি যাচাই করা হচ্ছে।

কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে চা, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্যকে এই বাজারে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন কমিশনার। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই লাভবান হবেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক ধারণা পৌঁছে দিতে তিনি সাংবাদিকদের তথ্যবহুল সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন, সিএসই তাদের পণ্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করলেই কমিশন পরবর্তী প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদারের উপস্থিতিতে কর্মশালাটি সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত