ঢাকা, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

অস্তিত্ব সংকটে ন্যাশনাল টি

২০২৬ জুন ২১ ০৮:৪২:৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড এক নজিরবিহীন আর্থিক ও প্রশাসনিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক লোকসানের কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা সচল রাখা এবং ভবিষ্যতে টিকে থাকা নিয়েই এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে ন্যাশনাল টির পুঞ্জীভূত বা জমানো লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৯ লাখ টাকায়। গত চার বছর ধরে কোম্পানিটি কোনো ইতিবাচক নগদ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) তৈরি করতে পারেনি, যার ফলে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক দায়দেনা শোধ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে কোম্পানির দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, কোম্পানির নিট সম্পদ এখন ঋণাত্মক (নেতিবাচক) ৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এর ফলে প্রতি শেয়ারের বিপরীতে নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৪৪.৯৭ টাকা। এছাড়া আর্থিক প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চলতি অংশ আলাদাভাবে না দেখানোয় এর সঠিক শ্রেণিবিন্যাস নিয়েও আপত্তি তুলেছেন নিরীক্ষক।

আর্থিক সংকটের পাশাপাশি কোম্পানির সুশাসন ও আইনি পরিপালনেও চরম গাফিলতি পাওয়া গেছে। বিএসইসি-র নির্দেশনা অমান্য করে সময়মতো বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক আর্থিক বিবরণী এবং আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি ন্যাশনাল টি। এমনকি নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভাও (এজিএম) করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা, যা তালিকাভুক্তি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

নিরীক্ষক আরও জানিয়েছেন, কোম্পানিতে কোনো যথাযথ নথি বা পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই অননুমোদিতভাবে অর্থ পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় ঘন ঘন পরিবর্তন, দক্ষ জনবলের অভাব এবং সঠিক বাজেটিং না থাকায় পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনা এখন জবাবদিহিহীন হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ের এই করুণ দশার বিষয়ে কোম্পানির পরিচালক শাকিল রিজভী জানান, মূলত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উচ্চ সুদের ঋণের কারণেই প্রতি বছর বড় অঙ্কের টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে এই সুদের হার কমানোর চেষ্টা করেও ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এছাড়া করোনাকালীন বড় ধরনের লোকসানের ধাক্কাও কোম্পানিটি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

১৯৭৯ সালে শেয়ারবাজারে আসা ন্যাশনাল টি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৬০.৫৭ শতাংশই রয়েছে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। এছাড়া সরকারের কাছে রয়েছে ৫.২২ শতাংশ শেয়ার। দীর্ঘমেয়াদি এই লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এবার... বিস্তারিত