ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
রিং শাইনের আইপিও তহবিলের জটিলতা সমাধানের নির্দেশ হাইকোর্টের
অর্থনীতি ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রপ্তানিমুখী বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের অব্যবহৃত আইপিও তহবিল ব্যবহারের জটিলতা এক মাসের মধ্যে নিরসনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০২৬ সালের ২৮৭২ নম্বর রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই রুল জারি করেন। কোম্পানিটি গত ৪ জুন বিএসইসি চেয়ারম্যানকে চিঠির মাধ্যমে আদালতের এই নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
রিং শাইন টেক্সটাইলসের দাবি, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তাদেরকে আইপিও’র উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। এর ফলে কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় বেশ কয়েকটি শিল্প প্লটের ইজারা বাতিলের ঝুঁকিতে পড়েছে কোম্পানিটি।
বিএসইসিকে দেওয়া চিঠিতে কোম্পানিটি অভিযোগ করেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও নানামুখী বিধিনিষেধের কারণে তারা তহবিলটি ব্যবহার করতে পারছে না, যা তাদের চলমান উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ৯৯.৯৯৪ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার আইপিও তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদন করেন। ওই প্রস্তাবে আইপিও’র অব্যবহৃত অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানোর পাশাপাশি অর্জিত সুদসহ প্রায় ৩৬ লাখ ডলার (৩.৬ মিলিয়ন) তহবিলের সংশোধিত ব্যবহার পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।
রিং শাইন জানিয়েছে, এজিএম-এর সিদ্ধান্ত ও বেপজার বকেয়া পরিশোধের উদ্দেশ্যে এই অর্থ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, এজিএম-এর কার্যবিবরণী এবং ই-ভোটিং রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র বিএসইসিতে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা এতে অনুমোদন দেয়নি। এরপর একাধিকবার আবেদন করা হলেও কোনো সমাধান মেলেনি এবং ব্র্যাক ব্যাংকে থাকা কোম্পানির আইপিও ফান্ড অ্যাকাউন্টটি এখনো ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, সব ধরনের প্রশাসনিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে পরিচালনা পর্ষদ গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে সংবিধানের ১০২(২) অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইকোর্ট কর্তৃক 'রুল নিশি' জারির অর্থ হলো—আদালত বিষয়টি বিচারিক পর্যালোচনার যোগ্য বলে মনে করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আইপিও তহবিলের ব্যবহারের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্ত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তৃত্বের ভারসাম্যের বিষয়ে এই চূড়ান্ত রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।
রিং শাইন টেক্সটাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ পিয়াল জানান, সংশোধিত ব্যবহার পরিকল্পনার জন্য শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়ার আগে কোম্পানি বিএসইসি’র সমস্ত নিয়ম, প্রবিধান, নির্দেশনা এবং করপোরেট গভর্নেন্সের শর্তাবলী কঠোরভাবে মেনে চলেছে।
তিনি বলেন, "একদিকে শেয়ারহোল্ডারদের বিপুল সমর্থন সত্ত্বেও প্রায় ৩৩ লাখ ডলারের অব্যবহৃত আইপিও তহবিল দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে আছে, অন্যদিকে বেপজার বকেয়া পাওনার ওপর বার্ষিক ২৪ শতাংশ হারে জরিমানা (সারচার্জ) যোগ হয়ে তা ক্রমাগত বাড়ছে। বকেয়া পরিশোধ না করায় বেপজা আমাদের শিল্প প্লটের ইজারা বাতিল করছে।"
পিয়াল আরও দাবি করেন, আবেদনের প্রায় এক বছর পর কমিশন প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর রিভিউ পিটিশন দিলেও কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একদিকে বিনিয়োগকারীদের টাকা অব্যবহৃত পড়ে আছে, অন্যদিকে প্লট বাতিল হওয়ায় কোম্পানির অস্তিত্ব ও উৎপাদন হুমকিতে পড়েছে। কোনো বিকল্প না পেয়েই তারা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত এক মাস সময় দিলেও এখনো তহবিলটি অবমুক্ত করা হয়নি, তবে আদালতের দেওয়া সময়সীমার আরও ২০ দিন বাকি রয়েছে।
আইপিও’র টাকা ব্যবহার করতে না পারায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ডিইপিজেড) অবস্থিত ২৩১-২৩৬ এবং ১৫৭-১৬৩ নম্বর শিল্প প্লটগুলোর ইজারা ইতিমধ্যে বাতিল করেছে বেপজা। এছাড়া ২২৪-২৩১, ২৩৭-২৬০ এবং ৭৯-৮৪ নম্বর প্লটগুলোর ইজারা চূড়ান্ত বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্লটগুলো রিং শাইনের উৎপাদন কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোম্পানিটি সতর্ক করেছে যে, এগুলো হারালে তাদের মোট বরাদ্দকৃত জমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হাতছাড়া হয়ে যাবে। এটি কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ, ব্যাপক ছাঁটাই এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের লোকসানের কারণ হতে পারে, যা কোম্পানির অস্তিত্বের জন্যই হুমকি।
উল্লেখ্য, রিং শাইন টেক্সটাইলস ২০১৯ সালে আইপিও’র মাধ্যমে বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করেছিল। ব্যবসা সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং কার্যকরী মূলধনের জন্য এই টাকা ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। তবে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে এই তহবিলের সংশোধিত ব্যবহার নিয়ে বিএসইসি’র সঙ্গে কোম্পানিটির বিরোধ তৈরি হয়।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কানাডা বনাম বসনিয়ার ম্যাচ চলছে: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা-সরাসরি দেখুন (LIVE)
- আর্জেন্টিনা বনাম আইসল্যান্ড ম্যাচ লাইভ দেখবেন যেভাবে
- আজ জার্মানি বনাম কুরাকাও: কখন শুরু, কোথায় দেখবেন লাইভ
- চলছে ব্রাজিল বনাম মরক্কোর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবিতে ৬৪ জনে ১ জন চান্স পেলেও প্রাথমিকে সবাইকে নিব: ববি হাজ্জাজ
- বুধবার থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদন শুরু
- চার দশক পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
- ব্রাজিল বনাম মরক্কো: দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- নিরাপত্তার কারণে বন্ধ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ
- সংসদে নবম পে-স্কেল ঘোষণা, প্রতিক্রিয়া জানালেন কর্মচারীরা
- ইউজিসি বাজেট: কোন বিশ্ববিদ্যালয় কত পেল
- বাজেটে কোন খাতে কত বরাদ্দ, বিস্তারিত জানুন
- জেনে নিন সমাবর্তন টুপির অজানা ইতিহাস
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণার সুযোগ