ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হ'ত্যা, আহত ১

২০২৬ জুন ২৫ ১৬:৩৪:৫২

একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হ'ত্যা, আহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। আহত মেজো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক অজ্ঞাত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রায়পুরের ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে শাহিনুর ও তাঁর মেয়েদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে শাহিনুর, সায়মা ও শিফা নিহত হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। অপর এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া গণপিটুনিতে আহত সন্দেহভাজন যুবকের মাথায়ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন এবং তাদের মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গণপিটুনিতে আহত সন্দেহভাজন যুবককে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত