ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

পে স্কেল বাস্তবায়নে সচিব কমিটির পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

২০২৬ জুন ২৫ ১৫:৫৬:১৭

পে স্কেল বাস্তবায়নে সচিব কমিটির পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার পর নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও চলমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং বেতনবৈষম্য কমানোকে বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত মতৈক্যে পৌঁছানো গেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ দুই খাতের সুপারিশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা নতুন পে স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

সূত্র আরও জানায়, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে। আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে বর্ধিত বেতন হাতে পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার হিসেবে অর্থ পরিশোধ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন দুই ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ সুবিধা দেওয়ার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ চলছে। মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পে স্কেল ঘোষণার পর যাতে কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনি ভেটিং এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির সভায় পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে এ দুই সংস্থার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই তাদের প্রস্তাবনাও চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন প্রশাসনিক ও আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত